ছুটিতে রাবির হল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ, উপাচার্য অবরুদ্ধ
শীতকালীন ছুটিতে আবাসিক হলগুলো খোলা রাখার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগসহ অন্য শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা দিয়েছে।
গতকাল শনিবার শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটিতে হল খোলা রাখা হয়। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প দিনের ছুটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে হয়। অনেকের পরীক্ষা ও অন্যান্য কাজ থাকায় তাদের রাজশাহীতেই থাকতে হয়। ফলে তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ব্যাঘাত ঘটে তাদের পড়াশোনায়। এর প্রভাব একাডেমিক পড়াশোনাসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরো বলে, ‘শীতকালীন ছুটিতে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত পড়াশোনা বান্ধব নয়। এর প্রতিবাদে আজ থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছি। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই প্রশাসনিক ভবন ও ফটকে তালা দিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হল খোলা রাখার দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু তারা প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক বন্ধ করে রেখেছে। ফলে ক্যাম্পাসে বাস ঢুকতে পারছে না, যানজট তৈরি হচ্ছে। আর এদিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বের হতেও পারছে না, ঢুকতেও পারছে না।’
অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন আরো বলেন, ‘যদি কাউকে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে না দেওয়া হয় তাহলে প্রাধ্যক্ষরা ঢুকবে কী করে। আর হল খোলা রাখতে হলে আমাদের হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এখন প্রাধ্যক্ষদেরও প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে না দেওয়ায় আমরা কিছু বলতে পারছি না। তাই আন্দোলনকারীদের উচিত প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া। পরে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের মতামত জানতে চাইলে তারা বলে, ‘আমরা প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা আন্দোলন করেছি তখন কোনো তালা দেইনি। কিন্তু যখন দেখলাম প্রশাসন আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে না তখন আমরা প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান গেটে তালা দিয়েছি। তাই আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকবে।’

রাবি সংবাদদাতা