র্যাগিংয়ের প্রতিবাদে এবার মাঠে নামলেন জাবি শিক্ষকরা
মানসিক নির্যাতন ‘র্যাগিংয়ের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা। সোমবার র্যাগিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষক। বেলা পৌনে এগারোটায় থেকে শুরু হয়ে বেলা বারোটা পর্যন্ত চলে এ মানববন্ধন। শিক্ষকদের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে অংশ গ্রহন করেছেন।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ‘র্যাগিং হলো নিপীড়ন, বন্ধু গড়ার রাস্তা নয়’, ‘স্বাধীনচেতা তরুণ প্রাণ, হোক র্যাগিংয়ের অবসান’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আনুগত্য তৈরীর রাস্তা নয়’, ‘ক্যাম্পাসে থাক স্বাধীন মন, আনুগত্য হোক বিসর্জন’-শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন ধারণ করতে দেখা গেছে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে র্যাগিং বন্ধে অবিলম্বে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন করার আহ্বান জানান। এসময় র্যাগিংয়ে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা র্যাগিংকে ক্যাম্পাস থেকে ঝাড়– দিয়ে বিদায় করব।’
র্যাগিং বন্ধে এবার কঠোরভাবে মাঠে নামবেন বলেন জানিয়েছেন প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের কয়েকজন। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বহু ছাড় দিয়েছি ,আর নয়। আমরা এর শেষটা দেখে ছাড়ব। র্যাগিং বন্ধ করতেই হবে।’ অচিরেই এর বিরুদ্ধে অন্যান্য কর্মসূচীও ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের অনেক প্রচেষ্টা স্বত্বেও জাবিতে বেশ কয়েকবছর ধরে র্যাগিং বন্ধ করা যাচ্ছেনা। আগের তুলনায় কমে আসলেও ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা এর সাথে জড়িত থাকার কারণেই এটা সম্পূর্ন বন্ধ করা যাচ্ছেনা বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। তবে এবার কয়েকটি হলে ছাত্রলীগকে র্যাগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হলে শুক্রবার নবীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চনার শিকার হন হল প্রাধ্যক্ষ ওবায়দুল হক।

জাবি সংবাদদাতা