‘আকতার জাহানকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলিকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর আত্মহত্যার সঠিক তদন্ত এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনাদানকারীদের শাস্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করেন।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহমুদ হায়দার রানা, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেদ হোসেন বকুল, সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান রাসেল, সহকারী অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মোহা. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিভাগের সামনে থেকে একটি শোক শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে মানববন্ধন করে। বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, অকালে প্রিয় সহকর্মীর মৃত্যু তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। আত্মহত্যার প্ররোচনার সঙ্গে যারা জড়িতদের বিচার দাবি করেন তাঁরা।
বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আকতার জাহান ম্যাম আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। ম্যামের জীবন থেকে হাসি আনন্দ, ভালোবাসা, সৌন্দর্য কেড়ে নিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করা হয়েছে। ম্যাম জীবনমৃত হয়ে বেঁচে ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর ম্যামের যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তা কেবল মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।’
অন্য আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জলি ম্যামের জন্য এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে এটা কখনোই ভাবিনি। কতটা শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হলে একজন মানুষ আত্মহত্যার করে। আমরা ম্যামের আত্মহত্যার সঠিক তদন্ত ও প্ররোচনাকারীদানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাব জুবেরী ভবনে আকতার জাহান জলির নিজ কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা করেন।

রাবি সংবাদদাতা