বন্ধুত্বের স্বাদে পিঠার ঘ্রাণ : ডাফ ৯৬–৯৭ এর উৎসবে ফিরছে ক্যাম্পাসের দিন
শীতের বিকেলে পিঠার ঘ্রাণ, গান–আড্ডা আর বহুদিনের না–দেখা বন্ধুদের মিলন—সব মিলিয়ে স্মৃতিময় এক সন্ধ্যা উপহার দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেন্ডস ফোরাম (ডাফ), ব্যাচ ১৯৯৬–৯৭। গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলাধুলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’।
বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে শীতের আমেজের সঙ্গে মিশে যায় পুরোনো দিনের বন্ধুত্ব, গল্প আর হাসি। আয়োজকদের ভাষায়, এটি ছিল শুধুই বিনোদনের আয়োজন নয়; বরং সহপাঠীদের পুনর্মিলন, পরিবারসহ একসঙ্গে সময় কাটানো এবং দেশের লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রয়াস।
উৎসবজুড়ে ছিল লোকজ গান ও নাচের পরিবেশনা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে পরিবেশিত হয় সিটি শো ‘তিন বোন’-এর লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল আলাদা বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। পাশাপাশি শীতকালীন নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমৃদ্ধ আয়োজন দর্শনার্থীদের বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আনন্দ। বন্ধু ও তাদের পরিবারের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল আয়োজনে।
আয়োজকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও ঐক্যের যে সংস্কৃতি—এই পিঠা উৎসব ছিল তারই এক জীবন্ত প্রতিফলন।
২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে কয়েকজন বন্ধু মিলে ‘ডাফ ৯৬–৯৭’ প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধুত্বের পরিসর বেড়ে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ছাড়িয়েছে এক হাজার। শুরু থেকেই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।
এবারের পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনে নেতৃত্ব দেন ডাফ ৯৬–৯৭-এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ও পিঠা উৎসবের আহ্বায়ক ফেরদৌস মুন্না এবং আয়োজক কমিটির সদস্য রাশেদুল আলমিন। তাঁদের সঙ্গে কমিটির অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন বিভাগের বন্ধুরা মাঠপর্যায়ে কাজ করে আয়োজনটি সফল করেন।
দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের এই মিলনমেলা ডাফ ৯৬–৯৭-এর সদস্যদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মৃতি, আনন্দ আর বন্ধুত্বে ভরা এক বিশেষ দিন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক