পদোন্নতির দাবিতে কর্মবিরতির ডাক ববি শিক্ষকদের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক সংকট দূর এবং ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি কার্যক্রম দ্রুত শেষের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন বেশিরভাগ শিক্ষক। আজ সোমবার বিকেলে ১০২ শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েও পদোন্নতি না মেলায় গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ ঘণ্টা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। অনশন ভাঙার পর নতুন এ কর্মসূচি ডাকলেন শিক্ষকরা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই ববিতে এত দিন ধরে পদোন্নতি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারি করা একটি নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক কার্যক্রমে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধিবিধান সংশোধন ও প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ উপাচার্যের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে কেবল অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করা যাবে। এই নির্দেশনার ফলে একটি গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। যার ফলে শুধু পদোন্নতি নয়, বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম সবকিছুই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
বিবৃততিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে বেশিরভাগ বিভাগেই বর্তমানে অন্তত পাঁচটি ব্যাচের পাঠদান চলমান থাকলেও অনেক বিভাগে মাত্র তিন-চারজন শিক্ষক দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এর মধ্যে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হলেও প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউজিসির নির্ধারিত লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস বা কোর্স গ্রহণ করবেন না। ইউজিসির পদোন্নতি সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রায় দুই মাস আগে ২৪ শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হওয়া সত্ত্বেও নতুন করে নিয়োগ বোর্ডের সভা আয়োজন না করায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষকসমাজে।
পদোন্নতি প্রত্যাশী সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মোস্তাকিম মিয়া বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের। গতকাল রোববার থেকে আমাদের এক সহকর্মী অনশনে বসেছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আমরা আমরা সব বিভাগের শিক্ষকরা একটা সাধারণ সভা করি। সেখান থেকেই আমরা এই কর্মবিরতি কিংবা শাটডাউনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল