ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা : আশেক মাহমুদ কেন্দ্রের কমিটি বাতিল, অধ্যক্ষকে শোকজ
জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসির নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের আলোকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজটির অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা কলেজে গিয়ে তদন্ত করেছি। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি পাওয়া গেছে। এ কারণে কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। বোর্ড সবসময় পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ প্রশ্নপত্র থেকে ভুলবশত এসব প্রশ্ন বিতরণ করেছে। এ ঘটনার দায় সম্পূর্ণভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ২০২৬ সালের নিয়মিত ১০০ পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত দেওয়া হয়। ওই কক্ষের সব পরীক্ষার্থী সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন বিভাগের ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কেন্দ্রটিতে সব মিলিয়ে ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যাতে তাদের ফলাফলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

নাহিদ হাসান, জামালপুর (সদর-মেলান্দহ)