২৫৯ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে চলছে পাঠদান
হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী চরম উদ্বেগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাধবপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে একজন কর্মচারী আহত হওয়ার ঘটনায় জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২০ জুন (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দপ্তরি প্রকাশ দাস আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহিদাস স্বপ্রণোদিত হয়ে হবিগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপুর আদালতে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা চেয়ে একটি আবেদন করেছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একই ধরনের জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯৫ জন শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। প্রায় ৩৪ বছর আগে নির্মিত ভবনের ছাদ থেকে সম্প্রতি পলেস্তারা খসে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাদি আহত হয়।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে সাদি আহত হয়। এখন প্রতিদিন চরম আতঙ্ক নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার জানায়, ঝড়-তুফানের সময় ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় তারা অনেক সময় পাশের বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
অন্যদিকে, জেলার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সোমেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর রায় বলেন, ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, বৃষ্টির সময় ভেতরে পানি পড়ে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং প্রায় ২৫ বছরেও সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয় ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো- হবিগঞ্জ সদরে ৩টি, লাখাইয়ে ৩টি, বাহুবলে ৩টি, নবীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ১টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, মাধবপুরে ৩টি, চুনারুঘাটে ৩টি এবং শায়েস্তাগঞ্জে ১টি। এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, জেলার যেসব বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে আগামী অর্থবছরে নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মো. সেলিম মিয়া, হবিগঞ্জ