‘ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে ১৬ জুলাই এনটিভির লাইভ সম্প্রচার’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবু সাঈদ বলেছেন, ১৬ জুলাইয়ের এনটিভির লাইভ সম্প্রচার টেলিভিশন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ঘটনাস্থলের বাস্তবচিত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেশবাসীর সামনে পৌঁছে দিয়ে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ইতিহাসের সেই মুহূর্ত সংরক্ষণেও এই সম্প্রচার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে। ১৬ জুলাই ক্ষমতাসীন দলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে এনটিভি যে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে, আশা করি ভবিষ্যতেও তারা সেই পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (১৫ জুলাই) এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেরোবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে গালি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফুসে উঠে ছাত্রছাত্রীরা। সেই দাবানল ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এরইমধ্যে ১৫ জুলাই ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে পরদিন ১৬ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন সারা দেশে পুলিশ ও ছাত্রলীগ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থান নিয়েছিল।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বেরোবি ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে সবাই যখন ছত্রভঙ্গ, তখন রাস্তার মাঝে পুলিশের মুখোমুখি দুহাত প্রসারিত করে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে যান বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার হাতে ছিল কেবল একটি লাঠি। মাত্র ১৫ মিটার দূরে রাস্তার উল্টো পাশ থেকে পুলিশ শটগান দিয়ে সরাসরি তার বুক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একের পর এক গুলি লাগার পরও সাঈদ বুক টান করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আন্দোলনের এই সমন্বয়ক।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ক্যামেরায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই দৃশ্য মুহূর্তেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। আবু সাঈদের সেই বুক পেতে দেওয়ার ভিডিও ক্লিপটিই মূলত ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলে। যা পরবর্তীতে রূপ নেয় ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়ে বদলে দেয় বাংলাদেশের ইতিহাস। আজ ইতিহাসের সেই বাঁক বদলানো রক্তাক্ত ১৬ জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী।

এ কে জায়ীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়