পীরগঞ্জে দুটি বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয় দুটি হলো—চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা থাকায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের পাঠদানে উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
জানা গেছে, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন এবং ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
স্থানীয় রোস্তম আলী মিয়া বলেন, জনসচেতনতার অভাবেও এমন ফলাফল হতে পারে। এলাকার অভিভাবকরা আরও সচেতন হলে হয়তো প্রতিষ্ঠান দুটির এমন শূন্য ফলাফল হতো না।
স্থানীয় মিলন ও সবুজ মিয়া বলেন, জিরো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদেরও দায় রয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদানে আরও সচেতন হলে এমন ফলাফল হতো না। বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত ভালো পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমাদের স্কুলে এমন কখনোই হয়নি। এবারের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসি টিভি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি।’
একই ধরনের দাবি করেন শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক মিয়া। তারা বলেন, সিসি টিভি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ফলাফল না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে বড় কারণ হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা কম। যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা আরও বেশি হতো তাহলে ভালো পাঠদান হতো।’
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, স্কুলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যা ছিল। আমরা একাধিকবার বলেছিলাম। শতভাগ ফেল করার বিষয়ে তাদের শোকজ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। রংপুর বিভাগের আটটি জেলার এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ চার হাজার ৯২৫ জন।
মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা; যেখানে সাত হাজার ১৫২ ছাত্রী এবং ছয় হাজার ৪৮৭ ছাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবার বোর্ডের আওতাধীন ২৮৩টি বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও ১৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি (শূন্য পাস), যা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মো. রতন মিয়া, রংপুর (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর)