কুবিতে মারামারির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে মেসেঞ্জার গ্রুপের একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মারামারিতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতে হলের পঞ্চম তলায় ঘটা এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। একই সাথে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী মারুফ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের কর্মী। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন- অর্থনীতি বিভাগের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও মো. হুমায়ুন কবির।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হলের দেয়ালে ‘জেসিডি’ লেখাকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তা নিয়ে মামুনুর রশীদ নামের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি করেন সোহাগ চৌধুরী, আকাশ রাজ বংশী, ফয়সাল আহমেদ ও হাসিব হাসান। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন উভয় পক্ষকে নিয়ে নিজ কক্ষে আলোচনায় বসেন। সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রাধ্যক্ষ সবাইকে কক্ষের বাইরে যেতে বলেন। এরপরই কক্ষের বাইরে মারুফ হোসাইনের ওপর হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেন ইলিয়াস ও হুমায়ুন।
হলের প্রাধ্যক্ষ মো. হারুন বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং তদন্তের সুবিধার্থে ইলিয়াস ও হুমায়ুনকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসাইনকে সদস্যসচিব করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আইসিটি বিভাগের প্রভাষক খন্দকার ওলিউল্লাহ ও সিএসই বিভাগের প্রভাষক জহিরুল ইসলাম বাবর।

ফরহাদ হিমু, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়