দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ, ৪৯ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এর বিপরীতে বোর্ডের অধীন ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে এই ফলাফল হস্তান্তর করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বোরহান উদ্দিন।
বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন। তাদের মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩ ৯৮ জন। সে হিসাবে বোর্ডে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৯৮ শতাংশ।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মোট দুই হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র এক হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী এক হাজার ৫৭০ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ছাত্ররা পিছিয়ে থাকলেও মেয়েরা শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জের ভেড়ভেরি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নয়নখাল স্কুল ও কলেজ; সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ, পঞ্চপুকুর স্কুল ও কলেজ, রতনীবাড়ী স্কুল ও কলেজ, লক্ষিচাপা সৃজনশীল কলেজ ও গয়াখারবাড়ী মহিলা কলেজ; ডোমারের জমিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয় ও বাগডোকরা নিমোজখান হাই স্কুল ও কলেজ; জলঢাকার সামিরউদ্দীন আদর্শ হাই স্কুল ও কলেজ এবং ডিমলার আদাবারী স্কুল ও কলেজ ও জেলা পরিষদ স্কুল ও কলেজ।
কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রৌমারীর চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ; নাগেশ্বরীর নাগেশ্বরী মহিলা কলেজ, কুটিপায়ড়াডাঙ্গা স্কুল ও কলেজ এবং চিলাখানা মডেল কলেজ; রাজারহাটের সিংগার ডাবড়ীহাট কলেজ, সিংগা ডাবরী হাট বিএল হাই স্কুল ও কলেজ এবং পানঘারি লক্ষীপাড়া স্কুল ও কলেজ; উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর বালিকা স্কুল ও কলেজ এবং চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল ও কলেজ।
ঠাকুরগাঁও জেলার ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মড়লহাট জনতা স্কুল ও কলেজ এবং রত্নাই বাগুলাবাড়ী হাই স্কুল ও কলেজ; সদর উপজেলার কদম রসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সালন্দর মহিলা কলেজ; রানীশংকৈলের ধুলঝাড়ি স্কুল ও কলেজ, গগর কলেজ ও রাউতনগর স্কুল ও কলেজ এবং পীরগঞ্জের ইখতিয়ারপুর শহীদ সালাহ উদ্দীন স্কুল ও কলেজ।
লালমনিরহাট জেলার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কালীগঞ্জের সোনারহাট স্কুল ও কলেজ, দুহুল এস সি হাই স্কুল ও কলেজ এবং দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল ও কলেজ; হাতীবান্ধার হাতীবান্ধা মডেল কলেজ ও আমিনুর রহমান কলেজ এবং আদিতমারীর গন্ধমারুয়া স্কুল ও কলেজ।
দিনাজপুর জেলার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বীরগঞ্জের কবিরাজহাট কলেজ ও সনকা আদর্শ কলেজ; ফুলবাড়ীর উত্তর লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল ও কলেজ; বিরামপুরের বেপারীতলা আদর্শ কলেজ এবং হাকিমপুরের পাউশগাড়া হাই স্কুল ও কলেজ ও বোয়ালদাড় স্কুল ও কলেজ।
রংপুর জেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ মহিলা কলেজ ও আমাদপুর কলেজ এবং পীরগাছার কান্দিরহাট স্কুল ও কলেজ। পঞ্চগড় জেলার দুটির মধ্যে রয়েছে বোদার বোদা পাইলট বালিকা স্কুল ও কলেজ এবং তেঁতুলিয়ার আলহাজ তমিজ উদ্দীন কলেজ। গাইবান্ধা জেলার দুটির মধ্যে রয়েছে পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজ এবং সাঘাটার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ।
বিপরীতে, এ বছর দিনাজপুর বোর্ডের অধীন শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন—এমন সফল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ছয়টি।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)