নারায়ণগঞ্জে সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ২৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ২৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে চার বারের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং তিনবারের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ২১৪টি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম (ঘোড়া) প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন চার হাজার ৩২৪ ভোট, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (ফুটবল) প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ২১১ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস (মাথাল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট, জনতার দলের আব্দুল করিম মুন্সী (কলম) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮৪ ভোট, ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০৬ ভোট, রিকশা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৭৫ ভোট, বটগাছ প্রতীক ৭৬৪ ভোট ও ট্রাক প্রতীক পেয়েছে ৩১২ ভোট। ফলে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী তাদের (৯ জন) প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ১৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. মো. ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া (দাড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসেন মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৮৮টি। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী এ আসনে প্রার্থীরা ৩৩ হাজার ৬৩৬ ভোট কম পেয়েছে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসাবে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন চার হাজার ৭৭৯ ভোট, ইছমাইল হোসেন কাওছার (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪৬ ভোট, আনোয়ার হোসেন (রিকশা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০০ ভোট, মোহাম্মদ আলী (হাতি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৩২৮ ভোট, ইকবাল হোসেন (কাস্তে) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৯৯ ভোট, মো. আরিফ ভুইয়া (ট্রাক) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০৬ ভোট, ছালাউদ্দিন খোকা (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১৭ ভোট, মো, সুলাইমান দেওয়ান (মোটর গাড়ি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭০ ভোট, সেলিম আহম্মেদ (একতারা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৪৩ ভোট, সেলিম মাহমুদ (মই) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮২ ভোট। ফলে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী তাদের (১০ জন) জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আব্দুল্লাহ আল আমীন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ছয় হাজার ১৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনির হোসেন কাসেমী (খেজুরগাছ) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম (হরিণ) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১০ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসেন মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৭৪ হাজার ২৫০টি। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী এ আসনে যেসব প্রার্থী ৩৪ হাজার ২৮১ ভোটের কম পেয়েছে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসাবে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাকসুদ হোসেন (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট, এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা (ছড়ি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪২ ভোট, আবু নাইম বিপ্লব (মই) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭০ ভোট, তারিকুল ইসলাম (মাথাল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক হাজার ২৩ ভোট, মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন সাত হাজার ৭০৮ ভোট, মন্টু চন্দ্র ঘোষ (কাস্তে) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক হাজার ৫৭৫ ভোট, মো. নাহিদ হোসেন (ট্রাক) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৪৩ ভোট, সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী (চেয়ার) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন চার হাজার ৬৫০ ভোট। ফলে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী তাদের (আটজন) জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এ আসনটিতে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এক লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেওয়াল ঘড়ি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ১৯৬ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন জমার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে হলে ওই আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাশ ভোট পেতে হয়। যেসব প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট পাবেন না, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়ম আছে। ওই ২৭ প্রার্থী তাদের আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)