বিশ্লেষণ
ভয়ের সংস্কৃতি, ভয়ের বাণিজ্য আইএস
বিবিসির চ্যানেল ফোরের সাংবাদিক এন্ড্রু হসকিনের সদ্য প্রকাশিত বই ‘এমপায়ার অব ফিয়ার : ইনসাইড দি ইসলামিক স্টেট’ থেকে একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই লেখার অবতারণা করতে চাই। ইরাক ও সিরিয়ার দখল করা বিভিন্ন এলাকায় আইএসের কথিত খিলাফত ঘোষণার পর সেখানকার অমুসলিম বিশেষ করে খ্রিস্টানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নেমে এসেছিল। আইএসের দখলে যাওয়ার পর খ্রিস্টানশূন্য হয়ে পড়েছিল ইরাকের মসুল আর সিরিয়ার রাকাসহ বিভিন্ন এলাকা। কেন দলে দলে দেশ ছাড়লেন খ্রিস্টানরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গা শিউরে ওঠা কিছু সত্য আবিষ্কার করেছিলেন এই লেখক। ইরাক-সিরিয়ায় কথিত খিলাফত ঘোষণার পর খ্রিস্টানদের অস্ত্রের মুখে ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দেয় আইএস জঙ্গিরা। এই নির্দেশ অমান্য করায় সিরিয়ার একটি খ্রিস্টান পরিবারের দুই বছরের ছোট্ট মেয়েশিশুটিকে তুলে নেয় জঙ্গিরা। পরে সেই শিশুর রান্না করা মাংস পাঠিয়ে দেওয়া হয় পরিবারটির কাছে।
নিজের বই সম্পর্কে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক এন্ড্রু হসকিন যেভাবে প্রসঙ্গটির অবতারণা করেছেন :
‘I asked myself, why has the Christian population gone down? It’s ISIS. The terrible violence, you wouldn’t believe it, what they did to people’s children, the churches they blew up and the number of people they have killed. I cite a report in the book about ISIS, cooking a two-year-old Syrian girl and serving it to her family.’
কোন শব্দে বা কোন বিশেষণে আপনি এই ঘটনার বর্ণনা দেবেন? ‘বর্বরতা’ শব্দটি নিজেই কি এখানে লজ্জা বোধ করবে না?
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক রবার্ট ফিস্ক যথার্থই বলেছেন, আইএস জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এখন ভাষাও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ‘রক্তপিপাসু, অসুস্থ, অশ্লীল, বর্বর, বিকৃত, নৃশংস, কুৎসিত’ এই শব্দগুলো আজকাল আইএস জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড ও বাস্তবতাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আর যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। জঙ্গিরা একেকটা ঘটনার জন্ম দিচ্ছে আর সেই বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের রীতিমতো ভাষার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
গত বছর জঙ্গিরা যখন ইরাকের মসুল দখলের পর দুনিয়ার সেরা জাদুঘরটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল, হাজার বছরের পুরোনো আসিরীয় সভ্যতার নিদর্শন নিমরুদ নগরী (খ্রিস্টপূর্ব ৮৮৩-৮৫৯ এ নির্মিত) গুঁড়িয়ে দিল তখন সেটিকে ‘অসুস্থ-বিকৃত’ শব্দবন্ধেই তুলে ধরেছিলেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি সিরিয়ার পালমিরায় দুই হাজার বছরের পুরোনো গ্রিকো-রোমান সভ্যতার দুটি মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গিরা। প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে সন্তানতুল্য পালমিরার এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবলই ‘অসুস্থ-বিকৃত’ নয়। তার চেয়েও বেশি কিছু। কিংবা অস্ত্রের মুখে তুলে নেওয়া অমুসলিম কিশোরী আর নারীদের রোজ পাঁচবেলা করে ধর্ষণের আগে জঙ্গিদের নফল নামাজ পড়াটাকে আপনি কী বলবেন? শুধুই কি ‘অশ্লীল বিকৃতি’? তার চেয়েও বেশি কিছু নয়?
কিছুদিন পর পরই এমন নিত্য-নতুন আরো ‘বেশি কিছু’র জন্ম দিয়ে চলেছে আইএস জঙ্গিরা। হয়তো অনির্দিষ্ট কাল ধরেই জঙ্গি দলটির এমন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুনিয়াজুড়ে সাংবাদিকদের শব্দের ভাণ্ডারে খাবি খেতে হবে। কিন্তু কতদিন? কোথায় গিয়ে থামবে আইএস? কিংবা আদৌ কি থামবে? ইরাক-সিরিয়ার বহুধা বিভক্ত রণাঙ্গনের মতোই জটিল এই প্রশ্নের উত্তরটাও।
ধর্মের দায় ইতিহাসের দায় আঞ্চলিক রাজনীতির অমীমাংসিত নানা সমীকরণের দায়, সব আজ ইরাক-সিরিয়ার ‘নৈরাজ্যপূর্ণ’ এই উষর মরুপ্রান্তরে মিলেমিশে একাকার। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, তুরস্ক আর ইসরায়েল তাদের নিজ নিজ স্বার্থগত অবস্থান থেকে কুৎসিত সব খেলার অবতারণা করে চলেছে। অন্তরালে ঘটে চলা এই দেশগুলোর সেই নোংরা খেলার পেছনেই লুকিয়ে আছে ‘কতদূর যাবে আইএস’ এই জটিল প্রশ্নের উত্তর।
বলছিলাম বিবিসির সাংবাদিক এন্ড্রু হসকিনের বই ‘এমপায়ার অব ফিয়ার : ইনসাইড দি ইসলামিক স্টেট’-এর কথা। বইটিতে আইএসের আগামী পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন লেখক। ২০২০ সাল নাগাদ ফ্রান্স থেকে স্পেন আর চীনসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার দখল নিতে চায় জঙ্গিরা। ‘কালোর পূজারি’ আইএস এ বিষয়ে একটি কালো মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। এই জঙ্গিরা অনেকটা দৃঢ়তার সঙ্গেই বিশ্বাস করে, আগামী পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে, উত্তর আফ্রিকা, চীন ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপের একাংশে তাদের কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে এসব এলাকার নামও ঠিক করে ফেলেছে আইএস। স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আন্দালুস’। আর ভারতীয় উপমহাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘খুরাসান’।
আইএসের এই ‘অলীক কল্পনা’ কতটা যৌক্তিক কিংবা ‘আলট্রা এক্সট্রিমিস্ট’ এই গ্রুপটি আদৌ সেই ক্ষমতা রাখে কি না তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু দম্ভভরে এতটা উচ্চাভিলাষের কথা জানান দেওয়ার ক্ষমতা এই দলটি কোথায় পায়? এটা কি শুধুই কাগুজে হুমকি? নাকি কথিত খিলাফতের নামে ‘সেক্স অ্যান্ড ভায়োলেন্সের’ নেশায় মত্ত হয়ে ওঠা জঙ্গি সদস্যদের দলে ধরে রাখার নতুন কোনো কৌশল? বাস্তবিক তাই। আল-কায়দা সদস্যদের প্রতি বিন লাদেনের কঠোর নির্দেশ ছিল, নারী-শিশু সে যদি শত্রু পক্ষেরও হয়, তাহলেও তাদের ওপর সরাসরি কোনো আক্রমণ নয়। আইএস ঠিক তার উল্টো। দলটির শুরুই হয়েছে তারা আল-কায়দার চেয়েও কতটা ‘জঙ্গি’ আর কতটা ‘বর্বর’ সেই প্রমাণ রাখার মধ্য দিয়ে। আর এরপর নিয়ম করে প্রতি মাসে এই জঙ্গিরা যেন নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভাঙার আর সকল বীভৎসতাকে অতিক্রম করার শপথ নিয়েছে।
কারণটা হলো আইএস নিয়মিতভাবেই বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে থাকতে চাইছে। এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা তাদের এই চাওয়ারই বাস্তবায়ন করে চলেছেন। প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন ‘আরো বেশি কিছু’র জন্ম দেওয়ার মধ্য দিয়ে আইএস কেবল ইরাক-সিরিয়ার দখল করা ভূখণ্ডে ত্রাসের রাজত্বই কায়েম করছে না, তারা বিশ্ব গণমাধ্যমের ‘কলাম-ইঞ্চি’ আর টিআরপি’রও দখল নিচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে। তাদের গতিবিধি আর রণকৌশল নিয়ে ‘ফরেন পলিসি’ নির্ধারকরা থিসিস লিখছেন। সেমিনার সিম্পোজিয়ামে তর্ক হচ্ছে। আবার সেই সব তর্কে যোগ দেওয়া মার্কিন জেনারেলরা বলছেন ‘ISIS is Kicking our Ass’ (Future of war: First Annual Conference, February 24-25, 2015).
যখন মার্কিন জেনারেলরাই বলেন ‘আইএস তাদের পাছায় লাথি মারছে’, তখন সেটা পাগলের কাছে সাঁকো নাড়ানোর মতো মোক্ষম বার্তা হয়েই হাজির হয়। আর এখানেই আইএসের সফলতা। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের দখল করা ভূখণ্ডে তো বটেই বরং দুনিয়াজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর ক্ষেত্রে দারুণ সফলতা অর্জন করেছে এই দলটি। ফলে আইএসের ক্ষুদ্র সামর্থ্যটাও প্রচার প্রপাগান্ডার বদৌলতে দানবীয় হয়ে হাজির হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী আইএসের মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৩০ হাজার। সংখ্যাটা যদি পঞ্চাশও ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও এটি মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দুর্বল দেশের একটি নিয়মিত বাহিনীর তুলনায় নগণ্য। অথচ এই সত্যটা কেউ উচ্চারণ করছে না। লক্ষ্যণীয় যে আইএসের উত্থানের পর থেকে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্তিমত্তা আর রণকৌশলকে রীতিমতো বীরত্বসূচক প্রেক্ষিত আর দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রচার করা হচ্ছে। যে কাজ আইএস নিজে তার প্রপাগান্ডা ভিডিও ছড়িয়ে করছে, সেটাকেই বিশ্বজুড়ে আরেক দফা প্রচারের দায়িত্বটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছে পশ্চিমা গণমাধ্যম। এ ক্ষেত্রে সিএনএনের জুড়ি মেলা ভার। আইএস একের পর এক গা শিউরে ওঠা কাণ্ড ঘটাচ্ছে এ নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু দলটির ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটানোর ক্ষমতা আর তার যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা নিশ্চয়ই এক কথা নয়। অথচ সিএনএনের মতো গণমাধ্যমগুলো আইএসের বীভৎসতাকেই তার দানবীয় শক্তি হিসেবে প্রচার করার একেকটা প্রেক্ষিত (Perspective) তৈরি করছে।
এই গণমাধ্যমগুলো কখনই প্রশ্ন তোলে না যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ৬৪টি জাতিরাষ্ট্রের একটি বিশাল জোটের গত প্রায় দুই বছরের বিমান হামলা এবং নানাবিধ কূটনৈতিক তৎপরতার পরও কেন আইএস এতটা অপ্রতিরোধ্য? তাহলে দুই বছরের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের লাভ-লোকসানের খতিয়ানটাই বা কী? তারা প্রশ্ন তুলছে না যে, তুর্কি ইসরায়েল আর কুয়েতের সীমান্ত কেন এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও জঙ্গিদের নিরাপদ স্বর্গ হয়েছিল? তুর্কি সেনা প্রহরায় অস্ত্রবোঝাই ট্রাকগুলো রাতের আঁধারে সীমান্তের ওপারে কাদের হাতে পৌঁছাতো? গোলান মালভূমিতে সিরিয়ার সেনারা যথনই আইএসবিরোধী কোনো অভিযান শুরু করেছেন, তখনই ইসরায়েলের বোমাগুলো কেন সেই অভিযানকে বানচাল করে দিয়েছে? ইসরায়েলের বোমাগুলো কেন বারবার আসাদ অনুগত সেনাদের অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস করেছে, আইএস জঙ্গিদের নয়। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাসকেও কাফের আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে আইএস। অথচ এই জঙ্গিদের মুখে আজ পর্যন্ত ‘ইসরায়েল’ শব্দটিও উচ্চারিত হতে শোনা যায়নি। আইএসকে ঘিরে এসব জটিল আর সন্দেহজনক সমীকরণের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এমনকি ইঙ্গিতটুকুও আমরা পশ্চিমা কোনো গণমাধ্যমে উচ্চারিত হতে দেখি না। যতটা দেখি আতঙ্কের প্রচার। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে বিশ্বজুড়ে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইএসের প্রপাগান্ডার সঙ্গে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর বস্তুত কোনো পার্থক্য নেই।
কেন এই ভয়ের পুজো কিংবা আতঙ্কের আগুনে ঘি ঢালা? কারণ ভয়ের এই সংস্কৃতির সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ তথা যুদ্ধবাণিজ্যের সম্পর্কটা খুব নিবিড়। মানুষে মানুষে জাতিতে রাষ্ট্রে ভয় আতঙ্ক যত বাড়বে, অস্ত্রের বাণিজ্য তত ফুলে ফেঁপে উঠবে। আইএসের উত্থানের পর থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য একটু একটু করে বাড়ছে। কিংবা আরো পেছনে যদি তাকাই, আমাদের নিশ্চয়ই মনে পড়বে ২০০১ সালে নাইন-ইলেভেনে হামলার পর ২০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় প্রেসিডেন্ট বুশ গোটা বিশ্বকে কী ভয়টাই না দেখিয়েছিলেন : তিনি বলেছিলেন, ‘Every nation in every region now has a decision to make: Either you are with us or you are with the terrorists’ সবাই বলবেন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সেটাই ছিল সূচনা। আমি বলব, ভয়ের এই বাণিজ্যিকীকরণ বা করপোরেটাইজেশনের সেটাই সূচনা।
এরপর আমরা দেখলাম বিন লাদেনের একেকটা টেপকে ঘিরে কীভাবে দুনিয়াজুড়ে ভয়ের সংস্কৃতির বাণিজ্যিক বিস্তার ঘটেছিল। ২০০৪ সালে মার্কিন নির্বাচনের ঠিক আগের দিন বিন লাদেনের আরো একটা টেপের সম্প্রচার এবং মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভয় বুশকে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে বসাল। এবং কালে কালে ভয়ের সেই করপোরেটাইজেশনের হাত ধরে এলো আইএস। আর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়ল ১৬ শতাংশ। গত বছরের বাণিজ্য বেসাতির গুণে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ (সূত্র : Stockholm International Peace Research Institute বা SIPRI). সৌদি আরব বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতা দেশ। আইএসের আতঙ্ক বাড়ার পর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কুয়েত, কাতার আর বাহরাইনের মতো দেশগুলো। আইএসের হুমকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ মার্কিন সেনা ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিজের দেশকে রীতিমতো বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে বাহরাইন। আইএস যদি না আসত, এত কিছু হতো? তাহলে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে (প্রয়োজনে অন্য কোথাও?) আইএসের এই টিকে থাকায় এবং ভয়ের বিস্তার ঘটানোয় লাভ বেশি কার? সমীকরণটা নিজেই মিলিয়ে নিন।
লেখক : সাংবাদিক। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘আল-কায়েদা থেকে আইএস’ বইয়ের লেখক। sujonkabir@gmail.com

সুজন কবির