প্রবাসে বাঙালিয়ানা আমেজে তরুণ-তরুণীর বিয়ের অনুষ্ঠান
সুদূর প্রবাসের মাটিতেও পরম মমতায় ফুটে উঠেছে এক টুকরো বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে সম্পূর্ণ দেশীয় সাজসজ্জা আর আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্লার তরুণ আরমান হোসাইন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কন্যা নাতাশার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পেনাংয়ের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি যেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা আরমান হোসাইন জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পেনাং শহরের একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে তার পরিচয় হয় মাদারীপুরের শিবচরের এক প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে। তিনি গত ৩০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেই পরিচয় একসময় পারিবারিক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। সেখান থেকেই নাতাশার সঙ্গে আরমানের বন্ধুত্বের শুরু। পরবর্তীতে সেই বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নিলে প্রায় আট মাস আগে বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পেনাং শহরে এই বর্ণাঢ্য বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে খাবার থেকে শুরু করে সাজসজ্জা- সবকিছুতেই ছিল নিখাঁদ বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। মালয়েশিয়ায় বেড়ে উঠলেও নাতাশার বাবা সবসময়ই চেয়েছেন তার সন্তানরা যেন দেশের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। মেয়ের এই বিয়ের মাধ্যমে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান।
অন্যদিকে, বর আরমান হোসাইন আনন্দের এই মুহূর্তে দেশে থাকা তার অসুস্থ বাবা-মা ও বন্ধুদের কথা স্মরণ করে কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় মালয়েশিয়ানদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করে। বর্তমানে এই নবদম্পতি মালয়েশিয়াতেই তাদের নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন।

কায়সার হামিদ হান্নান, মালয়েশিয়া