২০০ বছরের আটকান্দি নীলকুঠি জামে মসজিদ

ঐতিহ্যবাহী আটকান্দি নীলকুঠি জামে মসজিদটি মাওলানা আলীম উদ্দিন প্রায় ২০০ বছর আগে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ছায়া নিবিড় গাছগাছালি দ্বারা বেষ্টিত দক্ষিণ মির্জানগর (আটকান্দি) গ্রামে মেঘনা নদীর (মেঘনার শাখা নদী) পাড়ে নির্মাণ করেন।
মাওলানা আলীম উদ্দিন একজন ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের এক বিখ্যাত মাদরাসা থেকে ইসলাম ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা আলীম উদ্দিনকে নিয়ে রয়েছে রোমাঞ্চকর এক ইতিহাস। আটকান্দি নীলকুঠি জামে মসজিদের পাশেই রয়েছে তার স্ত্রীর কবর।
আটকান্দি নীলকুঠি জামে মসজিদটিতে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মেহরাব। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি আট গম্বুজ বিশিষ্ট। তার মধ্যে মসজিদের মূল অংশে রয়েছে তিনটি গম্বুজ, এর মধ্যে মাঝের গম্বুজটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের বারান্দায় রয়েছে আরো পাঁচটি গম্বুজ। এই আট গম্বুজকে কেন্দ্র করেই গ্রামের নামকরণ হয় আটকান্দি নামে। মসজিদের বারান্দায় প্রবেশের জন্য রয়েছে মোট সাতটি প্রবেশপথ। বারান্দা থেকে মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুইটি দৃষ্টিনন্দন দরজা।
মসজিদের ভেতরের দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ছায়া নিবিড় শীতলতা সর্বদা বিরাজ করে। মসজিদের মেহরাবে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ। এতে ব্যবহার করা হয়েছে বাহারি রকমের রঙিন পাথর, মার্বেল পাথর এবং মুঘল স্থাপত্যে ব্যবহৃত দুর্লভ পুঁথি পাথর।
সবুজ প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন আটকান্দি নীলকুঠি জামে মসজিদটি অনেকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে তুলনা করেন। কেউ কেউ আবার মসজিদটি তাজমহলের সঙ্গেও তুলনা করেন। কারণ মসজিদের গম্বুজ ও আকৃতি দেখতে কিছুটা তাজমহলের মতো।
একইসঙ্গে মসজিদের পাশেই রয়েছে মাওলানা আলীম উদ্দিনের স্ত্রীর কবর। ধারণা করা হয়, স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা এবং স্ত্রীর অসিয়ত থেকেই মাওলানা আলীম উদ্দিন এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে, মসজিদটিতে কোনো শিলালিপি না থাকায় নির্মাণের সঠিক তারিখ ও কারণ প্রকৃতপক্ষে রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।
ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই ঐতিহ্যপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসু মানুষজন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
২০২২ সালে এলাকাবাসীর অর্থায়নে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। মসজিদের ভেতরের মেঝেতে টাইলস বসানো হয়। ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমানে আধুনিকতার সংমিশ্রণ ঘটেছে এই মসজিদে। লোক সংস্কৃতি গবেষকদের দাবী, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা।