‘পিএইচপি কুরআনের আলোর মাধ্যমে লাল-সবুজ পতাকা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে’
কুরআনের আলো ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মুফতি মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, পিএইচপি কুরআনের আলো অলৌকিক একটা বিষয়। গোটা পৃথিবীর মধ্যে যত রিয়েলিটি শো হচ্ছে, তার মধ্যে সর্ববৃহৎ হিসেবে স্থান গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গোটা বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪টায় সর্ববৃহৎ টেলিভিশনভিত্তিক জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, যা সরাসরি সম্প্রচার করছে এনটিভি। অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘পিএইচপি কুরআনের আলো ২০২৬’ এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘পিএইচপি কুরআনের আলো’র সেরাদের সেরা প্রতিযোগী পুরস্কার হিসেবে পাবে চার লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পাবে তিন লাখ টাকা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী পাবে যথাক্রমে দুই লাখ ও এক লাখ টাকা। এ ছাড়া পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের প্রত্যেকে পাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার। ওস্তাদজীসহ প্রথম তিন স্থান অধিকারী প্রতিযোগী পাবেন ওমরাহ করার সুযোগ।
এবারের ছয় প্রতিযোগী হলো—
হাফেজ আব্দুল্লাহ সাইফ মুনতাহা, পিতা পলাম মিয়া, বয়স ১৩ বছর। নেত্রকোনার জামালুল কুরআন হিফজ মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী মাত্র এক বছর এক মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
হাফেজ ইলিয়াছ মাহমুদ, পিতা লোকমান হোসেন, বয়স ১৬ বছর, কুমিল্লার মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী মাত্র ৯ মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, পিতা ওয়াদুদ খোকন, বয়স ১০ বছর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাহাদুশ শায়েখ ইসহাক মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী মাত্র এক বছরে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
হাফেজ আবরার আল কারীম, পিতা তারেকুল কারীম, বয়স ১০ বছর। নোয়াখালীর দারুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী মাত্র ছয় মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
হাফেজ জুনায়েদ খান, পিতা জাবের খান, বয়স ১১ বছর। কুমিল্লার আররায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী এক বছর তিন মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
হাফেজ মোহাম্মাদুল্লাহ বিন শফিক, পিতা শফিকুল্লাহ, বয়স ১১ বছর। নরসিংদীর মাহাদুশ শায়েখ ইসহাক বাংলাদেশের এই শিক্ষার্থী এক বছরে হিফজ সম্পন্ন করেছে।
যার হাত দিয়ে শুরু ‘পিএইচপি কুরআনের আলো’
১৮ বছরে আগে দেশের প্রথম রিয়েলিটি শো ‘পিএইচপি কুরআনের আলো’ শুরু করেন হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, অকৃত্রিম কুরআন প্রেমিক, কুরআনের আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।
এনটিভি আয়োজিত পবিত্র কুরআন বিষয়ক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘পিএইচপি কুরআনের আলো : প্রতিভার সন্ধানে বাংলাদেশ’ এর বিচারক, পরিকল্পনাকারী ও পরিচালক ছিলেন ইসলামিক গবেষক হাফেজ মুহাম্মদ আবু ইউসুফ। ১৯৮০ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছিলেন বিএসটিআই জামে মসজিদের খতিব। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিবও ছিলেন এই গুণিজন। মৃত্যুর সময় স্ত্রী, দুই ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন মাওলানা মুহাম্মদ আবু ইউসুফ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক