যুদ্ধের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির চাপ, সূচকে বড় ধস
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ব বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এই কারণে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হতে পারে, এমন খবরে অনেক দেশেই আতঙ্কে রয়েছে। এ আতঙ্ক আমাদের দেশেও পড়েছে। এমন খবরে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। যার কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) সূচকে বড় ধরনের ধস হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
দেখা যায়, আজ দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচকের পতনে শেষ হয়েছে লেনদেন। আজ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৩১ পয়েন্ট। একদিনের ব্যবধানে বাজারে মূলধন পরিমাণ কমেছে ১৩ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অপরদিকে, এদিন সূচকের বড় পতন ও লেনদেনসহ মূলধন কমেছে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরে গত ১ মার্চ থেকে আতঙ্কিত হয়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতের থাকা শেয়ার বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে পুঁজিবাজারে ক্রেতার সংকট তৈরি হয়েছে জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। এতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে গত সপ্তাহে সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৫৯ পয়েন্ট। বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।
দেখা যায়, আজ লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বড় ধরনের পতনে চলে আসে। লেনদেন শুরুর প্রথম ছয় মিনিটে ডিএসইএক্স পতন হয় ৮৩ পয়েন্ট। বেলা বাড়ার পর পতন বাড়ে। লেনদেন শুরুর প্রথম ৪০ মিনিটে ডিএসইএক্স পতন হয় ৯১ পয়েন্ট। পরে পতন গতি আরও বাড়ে। এদিন লেনদেন শেষে সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ২৩১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। সূচকটি কমে দিনশেষে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার আট দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইএস সূচক ৩৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় এক হাজার ১৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএস৩০ সূচক ৯১ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৯১৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে।
আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত বলে মনে করছেন ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের সংকট খবরে এখন পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকেছেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইতে মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার মূলধন ছিল ছয় লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আজ লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৩৭১টির ও শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির।
অপরদিকে, সিএসইতে এদিন লেনদেন শেষে প্রধান সূচক সিএএসপিআইয়ের পতন হয় ৪১৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। সূচকটি কমে দিনশেষে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪০৫ দশমিক ২৪ পয়েন্টে। এদিন সিএসই৫০ সূচক ৩৫ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৯৯ দশমিক শূন্য আট পয়েন্টে। সিএসই-৩০ সূচক ৫১২ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৬৮৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচক ২৫৫ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় আট হাজার ৮০৫ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। এ ছাড়া সিএসআই সূচক ১৬ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৮৭২ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন সিএসইতে মূলধন দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৯১ হাজার ৭৪০ কোটি এক লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার মূলধন ছিল ৯ লাখ এক হাজার ৫১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আজ লেনদেন হওয়া ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ১৪৫টির ও শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে দুটির।

নিজস্ব প্রতিবেদক