সিএসইতে আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিজনেস শিক্ষা সফর সম্পন্ন ইডিইউর ৭০ শিক্ষার্থীর
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রায় ৭০জন শিক্ষার্থীর একটি দল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) আগ্রাবাদ কার্যালয়ে আয়োজিত আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিজনেস বিষয়ক শিক্ষা সফর সম্পন্ন করেছে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই প্রতিনিয়তই এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ ও স্বাগত জানিয়ে আসছে। অনুষ্ঠানে সিএসই কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন হেড অফ ট্রেনিং অ্যান্ড এওয়্যারনেসের এম সাদেক আহমেদ। অনুষ্ঠানে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি কার্যকর পুঁজিবাজারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি জরুরি । বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমাদেরকে মাল্টিডাইমেনশনাল দক্ষতায় নিজেকে উন্নীত করতে হবে। আজকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপানরা পুঁজিবাজারের কার্যক্রম, ট্রেডিং ও সেটেলমেন্ট, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, সার্ভেইলেন্স এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন। পুঁজিবাজারের পুরো কার্যক্রমের ব্যপারে আবহিত হতে হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাপারগুলো সম্বন্ধে ভালোভাবে জানতে হবে এবং আপনারা যত জানবেন, তত শিখবেন। এক্ষেত্রে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষা জরুরী।
তিনি বলেন, সিএসই সব সময়ই পুঁজিবাজারের উন্নয়নের কাজে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারের জন্য অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে । তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পুঁজিবাজার হলো এমন একটি স্থান যেখানে সঞ্চিতির বিনিয়োগ যেমন হয় তেমনই এই মার্কেট থেকে নতুন পুঁজি নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। পুঁজিবাজারের সম্পূর্ণ কার্যক্রম টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা এবং সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
জেনারেল ম্যানেজার এন্ড হেড অফ রিস্ক মানেজমেন্ট ডিভিশনের মোহাম্মদ মর্তুজা আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী এবং কর্ণধার উভয়ই হবেন আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষাকালীন সময় থেকেই এই পুঁজিবাজার এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা, সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং সুযোগ থাকলে প্রায়োগিক জ্ঞান গ্রহণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে ইনভেস্টর ছাড়াও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার অনেকগুলো সুযোগ রয়েছে। যেমন- উদ্যোক্তা, কনসালটেন্ট, ট্রেইনার, পরিকল্পনাকারী বা অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষণকারী হিসেবেও আপনি কাজ করতে পারবেন। আপানাদেরকে এমনভাবে তৈরি হতে হবে যেন যা হওয়ার কথা ছিল বা যা হয়নি সেগুলো করার উদ্যম ও প্রচেষ্টা আপানদের লক্ষ্যে থাকে। আপনাদের এবং আমাদের সবার সমন্বিত প্রয়াস বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের শিক্ষার্থীদের নিতে হবে সেই দায়িত্ব, হতে হবে আগামী দিনের সফল কর্ণধার।
প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থানের পেছনে সিএসই সব সময়ই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে, যার সাম্প্রতিক একটি উদাহরন হল কমোডিটি এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
তিনি উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সামনে এই পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক আজকের এই শিক্ষা সফরই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিএসইর অগ্রণী ভূমিকা উপস্থিতিদের তুলে ধরেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমানে প্রচলিত এবং অদূর ভবিষ্যতে নতুন চালুকৃত প্রোডাক্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। এছাড়া আর্থিক পরিকল্পনা, ঝুঁকি এবং পুঁজিবাজারের সাথে সম্পর্কিত রিটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সুরক্ষার জন্য তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা প্রদান করতে ও প্রায়োগিক পরিচালনা বিষয়ে অবহিত করতে এম সাদেক আহমেদ তাঁর উপস্থাপনা প্রদান করেন । এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। আগত শিক্ষার্থীরা পুঁজিবাজারের কাঠামোতে আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর আয়োজিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা কিংবা সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সিএসইর অগ্রণী কার্যক্রমগুলো ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে ও পুঁজিবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক