আর কবে শিখবে বাংলাদেশ?
এই তো কদিন আগে টেস্ট ক্রিকেটে ১৯ বছর পূরণ করল বাংলাদেশ। এই ১৯ বছরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় স্মৃতি খুব কমই বলা চলে। সর্বশেষ আজ রোববার ভারতের কাছে হেরেছে ইনিংস ও ৪৬ রানের ব্যবধানে। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে এমন হারের পরও বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক বলছেন ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা। তাহলে প্রশ্ন হলো, গত ১৯ বছরে টেস্ট ক্রিকেটে কী শিখেছে বাংলাদেশ? প্রতিটি ম্যাচের ব্যর্থতার পরই আসে ভুল থেকে শিক্ষার কথা।
ইডেনের আগে ইন্দোর টেস্টেও তিন দিনের ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই হারের পরও অধিনায়ক মুমিনুল বলেছিলেন ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা। ইন্দোরের ভুল শুধরে ইডেনে চিত্র পাল্টানোর।
কিন্তু তা আর হলো কই; বরং ইন্দোর থেকেও ব্যর্থ ইডেনে। অধিনায়ক নিজেই দুই ইনিংসে মেরেছেন ডাবল ‘ডাক’। বাকিদের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করেছেন শুধু মুশফিকুর রহিম। এ ছাড়া বরাবরের মতো ব্যর্থ ছিলেন ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুনরা। পরপর উইকেট বিলিয়ে আসার মিছিলে সোয়া দুদিনেই হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ সবাই।
এরপরও বাংলাদেশ অধিনায়ক বলছেন শিক্ষার কথা। স্পোর্টিং উইকেটে গোলাপি বলে সুইং বেশি, ব্যাটসম্যানদের উইকেটে গিয়ে আগে থিতু হতে হয়, পেসারদের দায়িত্বটা একটু বেশি—সবকিছু মাথায় রেখেই খেলেছে ভারত। বাংলাদেশ ভাবছে শুধু শিক্ষার কথা। পুরো দলে ভারতের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য হাড়ে হাড়ে টের পেল বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে মুমিনুল যেমনটা বললেন, ‘দুই দলের মধ্যে অনেক ব্যবধান। এ দুটি ম্যাচ থেকে আমাদের শিখতে হবে এবং ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গোলাপি নতুন বলটা চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। আমরা চ্যালেঞ্জটা নিতে পারিনি। হারলে সমস্যা নেই, কিন্তু কিছু ইতিবাচক ব্যাপার আছে। এবাদত ভালো বল করেছে। রিয়াদ ভাই ও মুশফিক ভাই ভালো ব্যাট করেছেন।’
এ ছাড়া টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তটাও ভুল কিছু দেখছেন না তিনি, ‘উইকেট দেখে শুকনো মনে হয়েছিল। আর পরে ব্যাট করলে একই ব্যাপার ঘটত। পরে ব্যাট করলে আলাদা কিছু ঘটত বলে আমি মনে করি না।’

স্পোর্টস ডেস্ক