বিসিবি চাইলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবেন মাশরাফি!
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন আগেই। বর্তমানে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে বিসিবি চাইলে এই ফরম্যাট থেকেও অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। আজ সোমবার বিপিএলের ম্যাচ শেষে এমনটাই জানালেন তিনি।
২০০১ সাল থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চোট বহুবার তাঁকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু লড়াই করে বারবারই মাঠে ফিরেছেন। তাঁর যুগে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে অনেক সাফল্য।
সেই মাশরাফিকেই বিদায় দিতে উন্মুখ হয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আয়োজন করে মাঠ থেকে স্মরণীয়ভাবে বিদায় দিতে চায় বিসিবি। বিসিবির এই চাওয়ায় নাকি সাড়া দিচ্ছেন না মাশরাফি। ক্রিকেটকে ভালোবাসেন বলেই খেলাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিসিবি চাইলে, যেকোনো মুহূর্তেই অধিনায়কত্ব ছাড়তে রাজি আছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক।
আজ সোমবার বিপিএলের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ স্মমেলনে মাশরাফি বলেন, ‘নির্বাচকরা যা ভাববেন তাই করব। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো সবই হয়। নির্বাচকরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই হবে। বিসিবি থেকে এখনই বলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে, কোনো সমস্যা নেই আমি ছেড়ে দিতে রাজি।’
তবে ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্বের কথা বললে সেটা নিজের কাছেই থাকুক বলে মনে করেন মাশরাফি। তাঁর কথায়, ‘যদি ব্যক্তিগত চিন্তার কথা বলেন, তাহলে বলব আমার কাছেই থাকুক।’
তবে অধিনায়কত্ব না করলেও খেলাটা চালিয়ে যেতে চান মাশরাফি, ‘আমি আগেও বলেছি, আমি ঢাকা লিগ খেলছি, খেলব। বিপিএল আছে, সেখানে খেলব, আমি খেলাটা উপভোগ করছি। এখানে (বিপিএলে) যারা ৭০-৮০ জন স্থানীয় ক্রিকেটাররা খেলছে তারা কি সবাই জাতীয় দলের আশা করে খেলছে? অবশ্যই না। আমার খেলাটি খেলে যাচ্ছি। সেটাই চালিয়ে যাব।’
অবসর নিয়ে নানা প্রশ্নে জর্জরিত মাশরাফি আরো বলেন, ‘জীবনে কঠিন সময় সবার ক্ষেত্রেই আসবে। আজকে যারা সুপারস্টার, আজ থেকে পাঁচ বছর পর তাঁদেরও এই পরিস্থিতিতে আসতে হবে। এটাই তো জীবন।’
এদিকে মাশরাফিকে স্মরণীয়ভাবে বিদায় দিতে চায় বিবিসি। গতকাল রোববার বিসিবির সভা শেষে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আপনারা জানেন, ওকে (মাশরাফি) অনুষ্ঠান করে বিদায় দেওয়ার প্রস্তাব একবার আমরা করেছিলাম। সেই আয়োজনটা বিশ্বকাপের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে তখন রাজি ছিল না। সে তখন বলেছিল বিপিএল পর্যন্ত দেখতে চায়। কিন্তু এখন তো সংবাদ মাধ্যমে অন্যটা দেখছি। যতটুকু জেনেছি তাঁর আয়োজন করে অবসরের ইচ্ছে নেই। যদিও আমাদের কিছু বলেনি।’
বিসিবি সভাপতি আরো বলেন, ‘আমরা ওর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব। আমরা তাঁকে অনেক বড় আয়োজন করে বিদায় দিতে চাচ্ছি। খুব ভালোভাবে। যেটা এর আগে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার পায়নি বা আগামীতে কখনো পাবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের ইচ্ছে। এখন সে যদি রাজি থাকে তাহলে ভালো। না রাজি হলে তো আমাদের কিছু করার নেই ।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক