ক্যারিয়ারে সব জিতেও যে আক্ষেপ মেসির
ফুটবল মাঠের সব ট্রফিই তাঁর জেতা হয়ে গেছে। আট বার ব্যালন ডি’অর জিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবুও বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে একটি বড় আক্ষেপে পুড়ছেন লিওনেল মেসি। ইংরেজি শিখতে না পারা এবং নামী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অক্ষমতা তাঁকে রীতিমতো কষ্ট দেয়।
সম্প্রতি মেক্সিকান এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই অপ্রাপ্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসি আক্ষেপ করে জানান, অল্প বয়সে যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি শেখেননি। ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা বলেন, ‘আমি অনেক বিষয় নিয়ে আফসোস করি। তার মধ্যে বড় একটি হলো—কিশোর বয়সে কেন ইংরেজি শিখলাম না। আমার হাতে তখন অনেক সময় ছিল, কিন্তু আমি তা কাজে লাগাইনি। এখন যখন বড় কোনো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং ভাষা না জানার কারণে কথা বলতে পারি না, তখন নিজেকে অর্ধ-মূর্খ মনে হয়।’
নিজের অতীতের ভুল নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে ভাবি আমি কত বোকা ছিলাম এবং কীভাবে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি।’
নিজের জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা এখন সন্তানদের দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল আইকন। তিনি চান না তাঁর সন্তানরাও ভবিষ্যতে এমন আক্ষেপে পুড়ুক। মেসি বলেন, ‘তরুণ বয়সে শেখার গুরুত্ব বোঝা যায় না। আমি এখন আমার সন্তানদের বলি পড়াশোনা এবং প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। আমি তাদের সবসময় বলি, হাতের কাছে থাকা সুযোগগুলো যেন তারা নষ্ট না করে।’
মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মেসি। সেই সময়কার কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনায় তখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল। আমি জানতাম আমাকে দেশ ছাড়তে হবে। বার্সেলোনার যুব একাডেমি ‘লা মাসিয়া’তে অন্যদের সঙ্গেই আমি পড়াশোনা শেষ করেছি।’
২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। ক্লাব ফুটবলের চূড়ায় পৌঁছানো এই কিংবদন্তি মনে করেন, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি জীবন যাপনের এক অনন্য মাধ্যম যা মানুষকে অনেক কিছু শেখায়।

স্পোর্টস ডেস্ক