ভোগসের ইতিহাসগড়া শতক
পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে অনেক ক্রিকেটারই অবসরের চিন্তাভাবনা শুরু করে দেন। কেউ কেউ তো অবসরও নিয়ে ফেলেন। অথচ অ্যাডাম ভোগসের টেস্ট অভিষেকই হলো ৩৫ বছর ২৪২ দিন বয়সে। আর অভিষেকেই ইতিহাস। টেস্ট অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বয়সে শতক করার কৃতিত্ব এখন ভোগসের অধিকারে। তাঁর অপরাজিত ১৩০ রানের অসাধারণ ইনিংসের সুবাদে ডোমিনিকায় প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা।
urgentPhoto
প্রথম ইনিংসে ৩১৮ রানে অলআউট হয়ে ১৭০ রানের লিড পাওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয় ইনিংসেও চেপে ধরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। দুই ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েইট ও শাই হোপকে হারিয়ে ২৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করা ক্যারিবীয়দের ইনিংস হার এড়াতে আরো ১৪৫ রান চাই।
৩৫ বছর ১১৭ দিন বয়সে টেস্ট অভিষেকে শতকের আগের রেকর্ড গড়া জিম্বাবুয়ের ডেভ হটনকে পেছনে ফেলে দেওয়ার জন্যই শুধু নয়, ভোগসের এই শতকের মাহাত্ম্য আরো বেশি। লেগস্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর ঘূর্ণিতে ১২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলীয়দের তিনিই পরিত্রাতা। তা-ও টেল অ্যান্ডারদের নিয়ে লড়াই করে।
মিচেল জনসনের (২০) সঙ্গে ৫২, নেইথান লায়নের (২২) সঙ্গে ৪৩ ও শেষ ব্যাটসম্যান জশ হেজেলউডের (৩৯) সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি গড়ে তিনি দলকে নিয়ে গেছেন তিনশর ওপরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড শেষ উইকেট জুটি। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করা বিশু ৮০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
অভিষেকেই শতক করে দারুণ খুশি ভোগস। এই কীর্তির জন্য সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আজ আমার স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার এই শতকের জন্য লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আসল কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা দুর্দান্ত খেলেছে। তাদের কাউকেই রক্ষা করে আমাকে খেলতে হয়নি।’

স্পোর্টস ডেস্ক