অকালে ঝরে পড়া এক কিংবদন্তি
অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা প্রতিভাধর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাইকেল স্ল্যাটারও অন্যতম। তবে অদ্ভুত কারণে মেধাটাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে স্ল্যাটারের যখন টেস্ট অভিষেক হয়, তার আগে মাত্র ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন তিনি। প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখে তাঁকে দলে জায়গা দিতে দেরি করেননি অজি নির্বাচকরা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম ইনিংসেই নিজেকে প্রমাণ করেন তিনি। মার্ক টেলরের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ৫৮ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২৭। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জেতে ১৭৯ রানে। টেস্ট ম্যাচটি আরেক কারণেও বিখ্যাত হয়ে আছে। এই টেস্টেই মাইক গ্যাটিংকে অসাধারণ এক লেগ স্পিনে বোল্ড করেন শেন ওয়ার্ন। পরে এই বলটিতেই শতাব্দী-সেরা বলের খেতাব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় টেস্টেই স্ল্যাটার পেয়ে যান শতকের দেখা। এরপর অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সেরা ওপেনারে পরিণত হতে খুব একটা সময় নেননি তিনি। ২০০১ সালে অবসর নেওয়ার আগে দলের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি।
১৯৭০ সালের আজকের দিনেই জন্মগ্রহণ করেন মাইকেল জোনাথন স্ল্যাটার। ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার দুই বছর পর শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথওয়েলসের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। খুব দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গাও পেয়ে যান। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিনি ৭৬.২৫ গড়ে ৩০৫ রান করেন তিনি। পরের মৌসুমে অ্যাশেজে ৬২৩ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন স্ল্যাটার।
তবে ওয়ানডেতে মোটেও সফলতা পাননি এই ওপেনার। ৪২ ওয়ানডেতে মাত্র ৯৮৭ রান করেন তিনি। এই কারণে ১৯৯৭ সালেই ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তিনি।
শুরুর কয়েক বছরের ধারাবাহিকতাটা টেস্ট ক্রিকেটে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। একটা সময় মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন স্ল্যাটার। সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একটা সময় হতাশ হয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসর নিয়ে ফেলেন তিনি। ৭৪ টেস্টে নয়বার ৯০-এর ঘরে গিয়ে আউট হন এই ব্যাটসম্যান। অবসর নেওয়ার পর নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য স্টিভ ওয়াহকে দায়ী করেন স্ল্যাটার।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন এই ড্যাশিং ওপেনার।

ওয়াসিফ করিম