একদিনেই চার ইনিংস!
একটা সময় ছিল, যখন টেস্ট খেলা হতো ছয়দিন ধরে। যদিও মাঝে একটা দিন ছিল বিশ্রামের জন্য। এখন আর সেটা নেই। পাঁচদিনেই শেষ হয় একটি টেস্ট ম্যাচ। তারপরও অনেক সময় ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। আবার পাঁচদিনের আগেও অনেক ম্যাচের ফলাফল চলে আসে। সব সম্ভবের খেলা ক্রিকেটের অভিজাত এ ফরম্যাটে একদিনে দুই দলের চার ইনিংস ব্যাট করার নজিরও আছে। ১৪০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা তিনবার দেখেছে টেস্ট ক্রিকেট।
২০১১ সালে কেপটাউন টেস্টে ৮ উইকেটে ২১৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক করেন ১৫১ রান, যা দুই দলের পরবর্তী দুই ইনিংসের মোট রানের চেয়ে বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে টেস্টের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোরের সামনে দাঁড়ায় সফরকারীরা। যে লজ্জা আজও বহন করছে নিউজিল্যান্ড। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল ব্লাক ক্যাপসরা। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান নাথান লায়ন সর্বোচ্চ ১৪ রান করলে ৪৭ রানে গিয়ে দাঁড়ায় অজিদের সংগ্রহ যা তাদের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর, সব মিলিয়ে ১৫তম।
তবে সর্বনিম্ন স্কোরের দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের পরে টানা চারটি অবস্থানই দক্ষিণ আফ্রিকার। তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ৩০। ২৩৬ রানের টার্গেটে নেমে ৮১/১ এ দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে গ্রায়েম স্মিথের দল। ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো একদিনে চার ইনিংস ব্যাটিং দেখল টেস্ট ক্রিকেট। দ্বিতীয় দিনে দুই দলের মোট ২৩টি উইকেটের পতন ঘটে। টেস্টের ইতিহাসে এটি একদিনে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট পতনের ঘটনা। ১৯৮৮ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পড়েছিল মোট ২৭টি উইকেট, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এ ম্যাচে দুই উইকেটের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০০২ সালে লর্ডস টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৬৭ রানে প্রথম দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনে অ্যান্ডি ক্যাডিকের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হন কোর্টনি ওয়ালশ, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের বোলিং কোচ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই মাত্র ৪৮.২ ওভার ব্যাট করে ১৩৪ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশদের প্রথম ইনিংস। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংস স্থায়ী হয় ২৬.৪ ওভার। ৫৪ রানেই আত্মসমর্পণ করে সফরকারী শিবির। সেই দ্বিতীয় দিনেই শেষ ইনিংসে ব্যাটে নামে ইংল্যান্ড। ১.১ ওভারে বিনা উইকেটে কোনো রান ছাড়াই শেষ করে দ্বিতীয় দিন। ১৮৭ রানের টার্গেটে পরের দিন ম্যাচটি দুই উইকেটে জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
২০০২ সালে হ্যামিলটন টেস্টের প্রথম দিন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। ভেজা মাঠের জন্য দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় দেরিতে। শেষবেলায় ৩৮ ওভারের একটা সেশনই মাত্র খেলা হয়। তৃতীয় দিনের শুরুতে মাত্র দুই বল খেলতেই ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় সৌরভ গাঙ্গুলির ভারত। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে ৯৪-তেই থেমে যায় স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের দল। তারাও খেলে ঠিক ৩৮.২ ওভার। টেস্টে প্রথমবারের মতো দুই দলই তাদের প্রথম ইনিংসে ১০০ এর নিচে স্কোর করে। ১০০ এর কম রান করেও প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার ঘটনাও এটাই প্রথম। তৃতীয় ইনিংসে ৫৬.২ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয় ভারত। টার্গেট দাঁড়ায় ১৫৯। আলো স্বল্পতার জন্য জ্বালানো হয় ফ্লাডলাইট। ওই দিনই শেষ ইনিংসে আবার ব্যাটে নামে স্বাগতিকরা। অবশ্য শেষ দিনে চার উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা।

সায়েদুল মাহমুদ