রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্রীড়া ভাতা পেলেন কোয়ান্টামের ৭ কৃতি ক্রীড়াবিদ
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মাসিক এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা পেয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে গড়ে ওঠা শিক্ষায়তন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন কৃতী ক্রীড়াবিদ। সরকারের দুই ধাপে দেশের ৩০০ জন শীর্ষ ক্রীড়াবিদকে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক ‘ক্রীড়া কার্ড’ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে কোয়ান্টামের এই ৭ জন রয়েছেন।
গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রথম ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে, গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেন।
‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই’ -এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় কোয়ান্টামে শুরু হয়েছিল ‘আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস’ কার্যক্রম। গত ১২ বছরে জাতীয় পর্যায়ে ২১৮টি স্বর্ণপদকসহ মোট ৫৫৬টি পদক জিতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের ধারাবাহিকতায় এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ স্বীকৃতি ও ক্রীড়া কার্ড পেয়েছেন কোয়ান্টামের ৪ জন চৌকস জিমন্যাস্টসহ টেবিল টেনিস ও ভলিবলের দুই সেরা তারকা।
জিমন্যাস্টিকসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া চার জনের একজন উহাইমং মার্মা। বান্দরবানের থানচির এক জুমচাষি পরিবারের সন্তান এবং বর্তমানে জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের এই অপরিহার্য সদস্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড নেন আরেক কৃতী জিমন্যাস্ট রাজীব চাকমা, যিনি বর্তমানে জাতীয় দলের জিমন্যাস্ট হিসেবে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এই তালিকায় আরও রয়েছেন রাঙামাটির নানিয়ার চরের সন্তান নিঝুম খীসা এবং সাংখেঅং খুমি কিতং; যারা গত ১৯ এপ্রিল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে তাদের কার্ড গ্রহণ করেন।
টেবিল টেনিসে দেশের বর্তমান ১ নম্বর র্যাংকিংধারী তারকা খই খই সাই মার্মা গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেন। তিনি কোয়ান্টাম থেকে খেলাধুলার প্রাথমিক পাঠ শেষ করে পরবর্তীতে বিকেএসপিতে স্থানান্তরিত হন। টেবিল টেনিসে স্বীকৃতি পাওয়া অপর তারকা হলেন রামহিমলিয়ান বম, যাকে গত ১৯ এপ্রিল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিশেষ ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ভলিবল অঙ্গনে কোয়ান্টামের মুখ উজ্জ্বল করেছেন দেশের উদীয়মান নারী তারকা মৌমৌ খই মার্মা। বর্তমানে জাতীয় নারী ভলিবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানজনক ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন।
এই ঐতিহাসিক অর্জন প্রসঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ বলেন, জাতিগতভাবে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে ‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই’ -বাক্যটিকে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। সরকারের ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি, ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের এই উদ্যোগে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশও একদিন অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতবে ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ ফুটবল, ভলিবল ও টেবিল টেনিসের মতো খেলাগুলোতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক মাঠ ও ইনডোর সুবিধা নিশ্চিত করে তৃণমূলের এই প্রতিভা বিকাশে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

আমিনুল খন্দকার, বান্দরবান (আলিকদম-লামা)