৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্বকাপকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে এবার ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা ঘিরে আবারও আলোচনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত এক দশকে তার নেতৃত্বে ফুটবলে বেড়েছে টুর্নামেন্ট, ম্যাচের সংখ্যা ও আয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের ভাবনাও সামনে এসেছে।
ইনফান্তিনোর যুক্তি, ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে তারা উন্নতির প্রেরণা হারাবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যোগ্যতা থাকলে ছোট দলগুলো আগেও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান কিংবা উজবেকিস্তানের মতো দলগুলো তারই উদাহরণ।
প্রস্তাবিত ৬৪ দলের বিশ্বকাপে ১৬টি গ্রুপে ভাগ হয়ে শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। এতে প্রতিযোগিতার কাঠামো কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বড় পরিসরের আসর আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়।
এই প্রস্তাবের পেছনে বড় ভূমিকা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তারা একবারের জন্য ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি তুলেছে। সংস্থাটির সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিঙ্গেজ বলেছেন, এতে বিশ্ব ফুটবলের উৎসব থেকে কেউ বাদ পড়বে না।
ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলে এ প্রস্তাব খুব একটা সমর্থন পায়নি। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার চেফেরিন এটিকে খারাপ ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি মনে করেন, এতে ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও।
দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে কিছু ছোট দল ভালো পারফর্ম করলেও অনেক দলই পয়েন্ট না পেয়ে বিদায় নিয়েছে। এতে গ্রুপ পর্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া কোন অঞ্চল কতটি অতিরিক্ত কোটা পাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। ইউরোপ ও আফ্রিকার দলগুলো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় ভারসাম্য রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
লজিস্টিক দিক থেকেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট মানে আরও বেশি ম্যাচ, বেশি সময় এবং বড় অবকাঠামো। অতিরিক্ত ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাড়তি দিন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে স্টেডিয়াম, অনুশীলন মাঠ, আবাসন এবং পরিবহন ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও বড় একটি বিষয় হয়ে উঠছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের কারণে দিনের বেলা ম্যাচ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। ফিফা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে যেখানে বিপুল আয় প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেখানে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আরও বেশি রাজস্ব এনে দিতে পারে।
সমালোচকরা মনে করেন, শুধুমাত্র আর্থিক লাভের জন্য বিশ্বকাপের আকার বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ নষ্ট হতে পারে। প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফিফা সদস্য দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলে গ্রুপ পর্বের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক