এমন ম্যাচও হারা সম্ভব!
জয়ের জন্য ৫৪ বলে প্রয়োজন ৬০ রান, হাতে আটটি উইকেট। উইকেটে দুই সেট ব্যাটসম্যানের একজন আবিদ আলীর স্কোর ১১২, মোহাম্মদ রিজওয়ান অপরাজিত আছেন ৭৫ রানে। রিজওয়ান শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ১০৪ রান করলেন। যেখানে দলের জয়ের জন্য করতে হতো ২৭৮ রান, সেখানে দুই ব্যাটসম্যান মিলেই করলেন ২১৬ রান। কিন্তু দলটার নাম পাকিস্তান! তাই শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন সহজ সমীকরণের ম্যাচও অবিশ্বাস্যভাবে ছয় রানে হেরে গেছে দলটি।
জয়ের জন্য ২৭৮ রান ওয়ানডে ক্রিকেটের আধুনিক এই যুগে খুব বড় স্কোর নয়। তবে রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ফিরে যান ওপেনার শান মাসুদ। ওয়ানডাউনে নামা হারিস সোহেল ৭৪ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ২৫ রানে ফিরে যান। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ২৪.৪ ওভারে ১৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের সুবাস এনে দেন অভিষিক্ত ওপেনার আবিদ আলী। অভিষেক ওয়ানডেতেই দারুণ খেলে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১১৯ বলে নয়টি চারে ১১২ রান করে লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হন। এর পরই পথ হারাতে থাকে পাকিস্তানের ইনিংস।
তাড়াহুড়া করতে গিয়ে একের পর এক উইকেট দিয়ে আসেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। ফলে ৫৪ বলে মাত্র ৬০ রান করতে ব্যর্থ হয় মিকি আর্থারের শিষ্যরা। ১০২ বলে নয়টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রান তোলা রিজওয়ান ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হন। কিন্তু আবিদের আউটের পর মাঝখানে অন্য কারো সহায়তা না পাওয়ায় সহজ ম্যাচটা হেরে যায় তাঁর দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৭১ রানে থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান কোল্টার-নাইল তিনটি ও অলরাউন্ডার স্টয়নিস নেন দুটি উইকেট।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মারকুটে ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় অস্ট্রেলিয়া। সেঞ্চুরি থেকে দুই রান দূরে থাকতে ৮২ বলে নয়টি চার ও তিন ছক্কায় ৯৮ রান করে আউট হন ম্যাক্সওয়েল। এ ছাড়া ওপেনার উসমান খাজা ৬২ ও অ্যালেক্স ক্যারে ৫৫ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ হাসনাইন, ইমাদ ওয়াসিম ও ইয়াসির শাহ।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল অসিরা। চতুর্থ ওয়ানডেটা ছয় রানে জিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক