দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে চায় না প্রোটিয়ারা
টি-টোয়েন্টির উত্তেজনা আর জাঁকজমকের কারণে অনেকটাই রং হারিয়েছে টেস্ট ক্রিকেট। পাঁচ দিনের কৌশল আর দক্ষতার লড়াই এখন আর সেভাবে দর্শক টানছে না। তাই ক্রিকেটের আদি সংস্করণকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো টেস্ট ক্রিকেটও নিয়মিতভাবে আয়োজনের চেষ্টা চলছে ফ্লাডলাইটের আলোয়। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ও একটি দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এ প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত বছরের নভেম্বরে ক্রিকেটবিশ্ব প্রথমবারের মতো দেখেছিল দিবারাত্রির টেস্ট। অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সেই ম্যাচটিতে দর্শক সমাগমও হয়েছিল বেশ ভালো। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তাই আবার একটি দিবারাত্রির টেস্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা এ ধরনের কন্ডিশনে খেলার পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টনি আইরিশ।
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত লাল রঙের বল ব্যবহার করা হলেও দিবারাত্রির টেস্টে খেলতে হয় গোলাপি রঙের বল দিয়ে। কারণ, ফ্লাডলাইটের আলোয় লাল রঙের বল ব্যাটসম্যানদের দেখতে কষ্ট হয়। এর আগে কখনো এই গোলাপি রঙের বল দিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকার কারণেই বেঁকে বসেছেন প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টনি আইরিশ বলেছেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই গোলাপি রঙের বল দিয়ে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলেনি। ফলে এ ধরনের ম্যাচ আয়োজন করা হলে আমরা শুরু থেকেই থাকব প্রতিকূল অবস্থানে।’
দিবারাত্রির টেস্ট ও গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতায় অবশ্য অস্ট্রেলিয়া অন্য সবার চেয়েই এগিয়ে আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে শেরফিল্ড শিল্ডের ম্যাচেও গোলাপি বলের ব্যবহার শুরু করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আগামী গ্রীষ্মে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচও ফ্লাডলাইটের আলোয় আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে অস্ট্রেলিয়ার।

স্পোর্টস ডেস্ক