গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক আমিনুল
এক সময় খেলার মাঠে জাতীয় দলের গোলবারের নিচে ‘অতন্দ্র প্রহরী’র ভুমিকা পালন করেছেন আমিনুল হক। ফুটবলের সবুজ মাঠকে বিদায় জানানোর পর নামেন রাজপথের লড়াইয়ে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে এবার দেশের জন্য কাজ করার পালা। এখন তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
ভোলার ছেলে আমিনুলের বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার প্রেম ছিল অগাধ। সেই প্রেমের পরিণয় হয় ১৯৯৪ সালে। নাম লেখান দেশের শীর্ষ লিগের ক্লাব ঢাকা মোহামেডানে। তবে, সেখানে তাকে থাকতে হয় তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক হয়ে। ফলে সেখানে লম্বা সময় থাকা হয়নি আমিনুলের। দুই বছর পরই বদলে ফেলেন ঠিকানা।
১৯৯৬ সালে আমিনুল নাম লেখান ফরাশগঞ্জ এসসিতে। সেখান থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন টক অব দ্য কান্ট্রি। ফরাশগঞ্জের জার্সিতে ১৯৯৬ মৌসুমে গোলবারের নিচে দারুণ পারফরম্যান্সে জানান দেন বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি।
আমিনুলের সেই পথচলা শুরু। দুই মৌসুম দলটির হয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আমিনুলের অভিষেক হয় লাল-সবুজের জার্সিতে। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য। ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছেন ৫০টি ম্যাচ।
খেলোয়াড়ী জীবনে জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক মোহামেডান, ফরাশগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শেখ জামালের হয়ে গোলবার রক্ষা করেছেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তার খেলোয়াড়ি জীবনের সোনালি সময় কেটেছে। দেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও।
ফুটবল মাঠ থেকে অবসর নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির মাঠে নামেন আমিনুল হক। বিগত সময়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সরব ছিলেন সাবেক এই ফুটবলার। জেল-জুলম নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে তাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আমিনুল হক। তবে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল বাতেনের কাছে স্বল্প ভোটে পরাজিত হন জাতীয় দলের সাবেক এই গোলরক্ষক।

স্পোর্টস ডেস্ক