বায়ার্নকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে পিএসজি
ফাইনালে যেতে ঘরের মাঠে দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হতো বায়ার্ন মিউনিখকে। সেই সমীকরণ মেলানো তো দূরে থাক, উল্টো ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বসল স্বাগতিকরা। এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের বাকি সময়ে রক্ষণে মনযোগী থাকল পিএসজি। শেষ সময়ে গোল করে হার এড়াতে পারলেও বিদায় ঠেকাতে পারেনি বায়ার্ন। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে জায়গা করে নিল পিএসজি।
বুধবার (৬ মে) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ১-১ গোলের ড্র হয়েছে। এর আগে প্রথম লেগে ৪-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামীতায় ফাইনালে জায়গা করে নিল লুইস এনরিকের দল।
ফাইনালে পিএসজির জন্য আগে থেকেই অপেক্ষা করছে আর্সেনাল। আরেক সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ২০ বছর পর ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।
ম্যাচ শুরুর মাত্র তৃতীয় মিনিটের মাথায় স্তব্ধ হয়ে যায় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া চমৎকার এক পাস বাড়ান। বক্সের মধ্যে সেই পাস ধরে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে কাভারাৎসখেলিয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে টানা ৭ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়লেন।
প্রথমার্ধে বায়ার্ন মিউনিখ দুইবার পেনাল্টির জোরালো আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুর দিকে নিজের বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাতে লাগে পিএসজি খেলোয়াড়ের। বায়ার্ন পেনাল্টির জন্য জোড়ালে আবেদন করলেও রেফারি সোজা না করে দেন।
এ ঘটনায় বায়ার্ন খেলোয়াড় ও কোচ কোম্পানি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নিশ্চিতভাবেই আলোচনার বড় জায়গা জুড়ে থাকবে এই ঘটনা।
পুরো ম্যাচে ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নেয় বায়ার্ন। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৮টি। বিপরীতে, ১৫টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি।
প্রথম লেগে একটি গোল সেভ দিতে না পারা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যূয়ার এদিন আলো ছড়িয়েছেন। বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তবে পিএসজির জাল খুঁজে নিতে পারেননি বায়ার্নের ফরোয়ার্ডরা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে হ্যারি কেইন গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম লেগের অগ্রগামিতায় ফাইনাল নিশ্চিত হয় পিএসজির। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির।

স্পোর্টস ডেস্ক