হঠাৎ জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার বার্তা বাটলারের?
এএফসি এশিয়ান কাপে মাঠের খেলায় ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। তবে দেশের ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন ফুটবলাররা। বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়া, চীন ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছে ঋতুপর্ণা চাকমা-আফঈদা খন্দকাররা।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজেবিকস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। সেখানে বেশ চাঞ্চল্যকর এক তথ্য দিলেন তিনি।
বাটলার বরাবরই ফুটবলারদের প্রশংসায় ভাসান। এ দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে তার সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছেন নিজের বিদায়ের বার্তাও। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বাটলার বলেন, ‘মেয়েদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা এবং আমি তাদের জন্য গর্বিত। এখন আমি ফিরে যাব এবং ভবিষ্যতে আমি কী করতে চাই, তা নিয়ে কিছুটা ভাবব। আমি ইংল্যান্ডে ফিরে যাব এবং সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেব।’
বাটলারের অধীনেই প্রথমবার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপের মুলমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিল এবার। আপাতত এশিয়া কাপের মিশন শেষ। এখন লক্ষ্য আগামী আসরেও কোয়ালিফাই করা।
এশিয়ান কাপের আগামী আসরে খেলতে হলে কী করা উচিত এমন প্রশ্নে আবারও নিজের ইংল্যান্ড ফেরার কথা জানালেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে থাকছি না। আমি আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি এবং সেখানে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবব। আমি কী করতে চাই, সেটা অনেক দিন ধরেই আমার মাথায় ঘুরছে।’
বরাবরই স্পষ্টবাদী স্বভাবের বাটলার। কাউকেই ছাড় দেন না তিনি। বাফুফে কর্তাদের ফুটবল জ্ঞান নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার অসহযোগিতা নিয়েও মিডিয়াতে কথা বলেছেন তিনি। নিজের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনায় সেটাকেই তুলে ধরলেন বাটলার।
বাটলার বলেন, ‘আমি আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবব। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে সাহায্য বা সাপোর্ট না পেলে আমি দায়িত্ব চালিয়ে নিতে পারছি না। বাস্তবতা হলো আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। আমাদের পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে বাফুফে। সে অনুযায়ী, তার চুক্তির মেয়াদ আছে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় দলের বাইরে বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বও পালন করেন বাটলার। ১ এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব- ২০ নারী এশিয়ান কাপ। সেখানেও বাটলারই হেড কোচ।
টুর্নামেন্টের অল্প সময় আগে তার চলে যাওয়ার বার্তা বিস্ময় জাগানিয়া। তাই সংবাদ সম্মেলনের পর আলাদাভাবে কোচকে ইংল্যান্ড ফিরে যাওয়া ও ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার মানে কি- জানতে চেয়ে প্রশ্ন রাখা হয়, অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে কোচিং করাচ্ছেন তো? এমন প্রশ্নে একটু কৌশলী উত্তর বাটলারের, ‘আপনিও ভাবুন, আমিও ভাবি।’
বাংলাদেশের ফুটবলের নানা রকম সমস্যা। সেসব আরও একবার তুলে ধরলেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘সবার আগে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। ভিডিও ইকুইপমেন্ট এবং ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্ব নিয়ে ভাবতে হবে। আপনি যদি বড় দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে চান, তবে বুঝতে হবে যে, সাফ লেভেলের চেয়ে এই লেভেলটা অনেক উঁচুতে।’

স্পোর্টস ডেস্ক