বিবর্ণ ফুটবলে ফ্রান্সের কাছে হারল ব্রাজিল
প্রথমার্ধে ছন্দহীন ফুটবল খেললেও বিরতির পর চেনা ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ফিনিশিংয়ের চরম ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ততা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের। বিপরীতে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উগো একিটিকেদের দারুণ পারফর্মেন্সে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল আর ফ্রান্স। এ ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ গোল হারিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে গোল দুটি করেছেন এমবাপ্পে আর একিটিকে। ব্রাজিলের হয়ে হাল খুঁজে পেয়েছেন ব্রেমার।
প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া এই দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে প্রথমার্ধ ছিল ম্যাড়মেড়ে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডরা গোলের সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পাননি।
ব্রাজিলের গোল মিসের মহড়ার বিপরীতে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ৩২তম মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাঝ মাঠে অহেলিয়া চুয়ামেনি বল কেড়ে নিলে পান উসমান দেম্বেলে। তার নিখুঁত রক্ষণচেরা পাস পেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চমৎকার চিপ শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে সেলেসাওরা। তবে ডি-বক্সের ভেতর খেই হারিয়ে ফেলছিলেন ভিনিসিয়াস-রাফিনহারা। এর মাঝেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ওয়েজলিকে বাজেভাবে ফাউল করেন ফ্রান্সের দায়ত উপেমেকানো। শুরুতে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর দেখে বদলে যায় রেফারির সিদ্ধান্ত, সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি।
প্রতিপক্ষের একজন ফুটবলার কম থাকার সেই সুযোগও নিতে পারেনি ব্রাজিল। উল্টো ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে আবারও গোল হজম করে বসে। মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন একিটিকে। জাতীয় দলের হয়ে এটি লিভারপুল ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোল।
দুই গোল হজম করে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। সেই কৌশলগত পরিবর্তন সত্ত্বেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়ে লড়াইয়ের আভাস দেন ব্রেমার।
সতীর্থের ফ্রি কিক বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন কাসেমিরো। বল পেয়েই গোলের জন্য শট নেন লুইস হেনরিক। মাঝ পথে পা বাড়িয়ে দিক পাল্টে ঠিকানা খুঁজে নেন ব্রেমার। ব্রাজিলের হয়ে ইউভেন্তুস ডিফেন্ডারের এটাই প্রথম গোল।
বাকি সময়ে ফ্রান্সের রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করে ব্রাজিল। তবে ফিনিশিং ব্যর্থতার আর জাল খুঁজে পায়নি আনচেলত্তির শিষ্যরা। ফলে ২-১ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলকে।

স্পোর্টস ডেস্ক