কেনো নেইমারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নিলেন আনচেলত্তি?
চোটের সঙ্গে সঙ্গে লড়াই করতে করতেই ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় কেটে গেছে ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের। এসিএল চোটের কারণে প্রায় বছর তিনেক হলো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের।
আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে নেইমার থাকবেন কি না? সেই আলোচনা ছিল পুরো ফুটবল বিশ্বেই। এমনকি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও চেয়েছেন নেইমার যেনো বিশ্বকাপে খেলে।
সব আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটেছে, অপেক্ষা ফুরিয়েছে নেইমার ভক্তদের। সোমবার (১৮ মে) দিনগত রাতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেখানে নাম আছে নেইমারেরও।
নেইমারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা নেইমারকে পুরো বছরের হিসাবে মূল্যায়ন করেছি এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার ধারাবাহিক খেলে যাওয়া ও শারীরিক অবস্থার উন্নতির বিষয় পর্যবেক্ষণে ছিল। বিশ্বকাপে অন্যদের মতো তারও একই ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা থাকবে; কারণ তিনি একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এটি সত্য যে কিছু পজিশনে আমরা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দিই।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নেমে চোটে পড়েন নেইমার। এসিএল চোটের কারণে এক বছরের বেশি সময় ছিলেন পুরোপুরি মাঠের বাইরে। এরপর নিয়মিতই চোটে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিজের ফিটনেসের উন্নতি করেছেন নেইমার। তবুও আলোচনা ছিল, নেইমার যদি বেঞ্চে থাকতে রাজি হন তাহলেই কেবল তাকে স্কোয়াডে বিবেচনা করবেন আনচেলত্তি।
সেটিই যেনো আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘তিনি এই বিশ্বকাপে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এখানে আপনার খেলার, না খেলার, ডাক পাওয়ার কিংবা বেঞ্চে বসে কাটানোরও সম্ভাবনা আছে।’
নেইমার শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, আনচেলত্তি সেটি ঠিক করবেন অনুশীলনে পর্যবেক্ষণ করেই। তিনি বলেন, ‘আমি স্বচ্ছ ও সৎ থাকতে চাই– যদি নেইমার দলে থাকা প্রাপ্য হন তবে খেলবেন। শুরুর একাদশ নিয়ে আমার ধারণা আছে, তবে আমি অনুশীলন দেখতে চাই, যদি খেলোয়াড়রা প্রস্তুত থাকেন। নেইমারেরও একই ভূমিকা থাকবে।’
তবে দলে নেইমারের উপস্থিতি দলের মধ্যে ভালো আবহ তৈরি করবে বলে মনে করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগপর্যন্ত শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি করতে পারেন। তবে তার অভিজ্ঞতা, দলে তার প্রতি সহানুভূতি ভালো আবহ তৈরি করতে পারে এবং এটি সাহায্য করবে পুরো দলকে।’
২০১৩ থেকে ২০২৩ সালে নেইমারের চোটে পরার আগ পর্যন্ত ব্রাজিল অনেকটাই নেইমার নির্ভর দলে পরিণত হয়েছিল। হলুদ জার্সিতে গোলস্কোরার ভালো খেললেই কেবল জয়ের নিশ্চয়তা পাওয়া যেত। এই অবস্থা দলের জন্য কতটা বিপজ্জনক ছিল তা দেখা গেছে, নেইমার চোটে পরার পর।
আরো পড়ুন : নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপের বিমান ধরছে ব্রাজিল
আনচেলত্তি সেখান থেকে বের করতে চান দলকে। তিনি বলেন, ‘আমার মতে শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর প্রত্যাশা আটকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। দলগতভাবে পারফর্ম করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সবারই অবদান রাখতে হবে। আমি তারকা চাই না। আমি এমন খেলোয়াড় চাই যারা দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করবে। নেইমারকে কেবল রিজার্ভ ফুটবলার হিসেবে নেওয়া হয়নি, তিনি দলের মান বাড়িয়ে তুলবেন, এমনকি যদি এক মিনিটের জন্যও খেলেন।’
দল নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটা হয়তো নিখুঁত দল হয়নি। কিন্তু এটি হবে সহনশীল, একাগ্র, বিনয়ী ও নিঃস্বার্থ। বিষয়টি সমষ্টিগত, ব্যক্তিগত নয়। এরপর আমাকে সেই নিশ্চয়তা দিতে পারে এমন খেলোয়াড় বেছে নিতে হবে। আমার কাছে সব তথ্য আছে। আমি এর জন্য উন্মুখ নই। প্রত্যেকেরই ভিন্ন ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা আমিই নিই।’
এখনই স্কোয়াড গড়া নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে নিষেধ করলেন ব্রাজিল কোচ। আনচেলত্তি বলেন, ‘আজ কেউ বলতে পারবে না যে কোচ ভুল করেছেন। জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তখন নিশ্চয়ই কেউ আমাকে বলবে যে আমি ঠিক করেছি নাকি ভুল।’

স্পোর্টস ডেস্ক