প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইতিহাস গড়ল মিসর
শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে উঠল ম্যাচ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়েও গেল নিউজিল্যান্ড। তবে হতাশায় পুড়ছিল মিসর। ম্যাচের চিত্র বদলে গেলে দ্বিতীয়ার্ধে। গোলের ক্ষুধায় মরিয়া আফ্রিকার দলটি প্রত্যাবর্তনের দারুণ গল্প লিখল। তিনবার নিউজিল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় নিশ্চিত করল মিসর।
আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে মুখোমুখি হয়েছে মিসর আর নিউজিল্যান্ড। জমজমাট লড়াই শেষে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মিসর।
এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছে মিসর কিন্তু কখনোই জয়ের দেখা পায়নি। অবশেষে অধরা সেই স্বপ্ন ধরা দিল সালাহদের হাত ধরে। চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে প্রথম জয় পেল ফারাওরা।
এই জয়ে নকআউটের পথেও অনেকটাই এগিয়ে গেল মিসর। দুই ম্যাচ খেলে সমান একটি করে জয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে তারা। দুই ও তিন নম্বরে থাকা ইরান আর বেলজিয়ামের পয়েন্ট সমান ২ করে।
আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচ। তবে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন ফিন সুরমান।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই দারুণ একটি শট নিয়েছিলেন এলিজা জাস্ট। কর্ণারের বিনিয়ময়ে সেটি আটকান মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা আহমেদ শোবিইর। সেটিই নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য খুলে দেয়। টিম পেইনের নেওয়া কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল লাফিয়ে ওঠে জালে জড়ান সুরমান।
এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই চেষ্টা করেছে গোলের জন্য কিন্তু সফল হতে পারেনি কেউই। দুই দলই সুযোগ নষ্ট করেছে দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড।
বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মিসর। সুযোগ পেলেই হানা দিচ্ছিল নিউজিল্যান্ডের রক্ষণে। ফলাফল পেতেও খুব বেশি সময় রাগেনি তাদের। ম্যাচের সমতা ফেরান
ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে মিসর। বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের কাছে চলে যান ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হ্যানি। সেখান থেকে ছয় গজ বক্সের মধ্যে দারুণ ক্রস বাড়ান তিনি। সেটাতে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মোস্তফা জিকো। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল।
গোল পেয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মিসর। দ্রুতই আরও কয়েকটি আক্রমণ হানে তারা। তবে দুর্বল ফিনিশিংয়ে বারবার আটকে যাচ্ছিল নিউজিল্যান্ডের বক্সের আশেপাশে গিয়ে। দলের পোস্টারবয় মোহাম্মদ সালাহও কিছু করতে পারছিল না।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ফেরেন সালাহ। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। বক্সের কাছে গিয়ে মোস্তফা জিকোকে বল দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন সালাহ। ফিরতি পাস পেয়ে দারুণ শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
৭৬তম মিনিটে বদলি নেমে ৮২তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ত্রেজেগে। মোহাম্মদ সালাহর নেওয়া কর্ণার থেকে বল পেয়ে দারুণ হেডে জালে পাঠিয়ে দেন। নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় মিসর।

স্পোর্টস ডেস্ক