সেনেগাল ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হলান্ড
নিউজার্সির বিশাল স্টেডিয়ামজুড়ে নীরবতা। সেনেগাল দলের টিম বাস, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়া চোখে পড়েনি তেমন কোনো ব্যস্ততা। মঙ্গলবার(২৩ জুন) সকালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিউইয়র্ক সময় বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয় সেনেগাল।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আলোচনায় আর্লিং হলান্ড। সংবাদ সম্মেলনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নরওয়ে দলকে নিয়ে যতটা না প্রশ্ন এসেছে, তার চেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াওকে হলান্ডকে ঘিরে।
২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের হয়ে খেলা সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘হলান্ড অবশ্যই বড় মাপের ফুটবলার। তবে আমরা শুধু হলান্ডকে নয়, পুরো নরওয়ে দলকে নিয়েই ভাবছি।’
যদিও ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের তারকা খেলোয়াড়কে ঘিরে এমন মন্তব্য কোচদের পরিচিত কৌশল হিসেবেই দেখা হয়। এরপরও সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, হলান্ড এমন একজন ফুটবলার যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাকে থামাতে কি বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?
জবাবে পাপে থিয়াও বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলে যখন হলান্ডের মতো একজন ফুটবলার থাকে, তখন তাকে আটকানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা থাকতেই হয়।’
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে ‘আই’ গ্রুপে রয়েছে সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক। প্রথম ম্যাচে নরওয়ে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইরাককে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে সেনেগাল।
ফলে সেনেগাল-নরওয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জয় পাওয়া দল নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। শক্তির বিচারে দুই দল কাছাকাছি হলেও পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন একজনই, আর্লিং হলান্ড।
তাই হলান্ডকে ঘিরেই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সেনেগাল কোচকে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় পাপে থিয়াও। তিনি বলেন, ‘শুধু হলান্ড নয়, আমরা পুরো নরওয়ে দলকে নিয়েই ভাবছি।’
১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল সেনেগাল। কিন্তু এবার সেই ফ্রান্সের কাছেই হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করায় কিছুটা চাপে রয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
নরওয়ের বিপক্ষে হারলে তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই করতে হবে সেনেগালকে। সেক্ষেত্রে ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আট দলের তালিকায় জায়গা করে নিতে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এসব সমীকরণ নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ পাপে থিয়াও।
সেনেগাল কোচের ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছি। আগামীকালের ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন পুরো মনোযোগ নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। জটিল হিসাব-নিকাশ পরে করা যাবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক