ভাগ্য নয়, ছোট দলের সাফল্যের পেছনে অন্য কিছু
বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর একাধিপত্যে বেশ জোরালো ধাক্কা দিয়েছে ছোট দলগুলো। স্পষ্ট ব্যবধান ঘুচিয়ে চোখে চোখে রেখে লড়াই করেছে নবাগত কেপ ভার্দে, কুরাসাওরা। কেপ ভার্দে আরেক কাঠি সরেস। ইতিহাস রচনা করে পৌঁছে গেছে নকআউট পর্বে।
চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়েছে কেপ ভার্দে, ঘানা, কুরাসাও ও দক্ষিণ আফ্রিকা পয়েন্ট অর্জন করেছে স্পেন, ইংল্যান্ড, ইকুয়েডর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে। এসব কি শুধুই ভাগ্য, নাকি পরিকল্পিত কৌশলের ফল?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এসব চমকের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে দলগুলোর নিখুঁত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং সঠিক সময়ে পাল্টা আক্রমণ।
সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অভিষেকেই স্পেনের মতো দলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সবাইকে চমকে দেয় আফ্রিকার ছোট দেশটি। ম্যাচজুড়ে ৪-৫-১ ফরমেশনে রক্ষণ সাজিয়ে মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের মধ্যকার দূরত্ব খুব কম রেখেছিল তারা। ফলে স্পেনের খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে জায়গা তৈরি করতে পারেনি।
স্পেন বারবার নিজেদের অর্ধে বল ফিরিয়ে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের ওপরে তুলে আনতে চাইলেও সেই ফাঁদে পা দেয়নি তারা। নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে উইং দিয়ে খেলতে বাধ্য করে কেপ ভার্দে। এতে স্পেনের স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল অনেকটাই ভোঁতা হয়ে যায়।
কেপ ভার্দে স্পেনকে থামিয়েই ক্ষান্ত দেয়নি। স্পেনের মতো আরেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে রুখে দিয়েছে তারা। ড্র করেছে সৌদি আরবের সঙ্গে, যারা গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। জয় না পেলেও অপরাজিত থেকে ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত করেছেন কেপ ভার্দে।
কেপ ভার্দের কৌশল ব্যবহার করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সফল হয় ঘানা। থমাস টুখেলের দল বলের দখল রাখলেও ঘানার কমপ্যাক্ট ৪-৫-১ রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়। মাঝমাঠে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকায় ইংল্যান্ডকে বারবার পাস কিংবা লম্বা বল খেলতে হয়েছে।
ছোট দলগুলোর আরেকটি বড় অস্ত্র ছিল গোল-কিক থেকেই পরিকল্পিত বিল্ডআপ। গোলরক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি লম্বা বল না খেলে ছোট ছোট পাসে প্রতিপক্ষকে ওপরে টেনে এনে পরে লম্বা পাসে আক্রমণ গড়ে তুলেছে কেপ ভার্দে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরাক। এতে প্রতিপক্ষের হাই প্রেস ভেঙে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩১ শতাংশ বলের দখল রেখেও ১৪টি শট নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে প্রতিপক্ষ নিতে পারে মাত্র ৭টি। হাই প্রেস ভেঙে দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ফুটবল দলীয় খেলা হলেও কখনও কখনও একজন ব্যক্তি পার্থক্য গড়ে দেন। স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কিংবা কুরাসাওয়ের এলয় রুমের রেকর্ড ১৫টি সেইভ প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে কোনো ব্যক্তি বিশেষও ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
আধুনিক ফুটবলে শুধু তারকাসমৃদ্ধ দলই নয়, সঠিক কৌশল, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অপেক্ষাকৃত ছোট দলও বিশ্বকাপের বড় শক্তিগুলোকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে—এবারের বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত এমন বার্তাই দিয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক