যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম
ম্যাচের একদিন আগেই চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। ফিফার বিরুদ্ধে উঠেছিল চরম সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। সেসবের কোনো প্রতিকারও পায়নি বেলজিয়াম। ইউরোপের দেশটি সব রাগ যেনো ঝাড়ল মাঠের খেলায়। শুরু থেকে শেষ– যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে রীতিমতো ছড়ি ঘুরাল তারা। স্বাগতিকদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে করল গোল উৎসব। পুরো গ্যালারিকে সতব্ধ করে দিয়ে জায়গা করে নিল কোয়ার্টার ফাইনালে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র আর বেলজিয়াম। পুরো ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্সে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম।
ম্যাচের একদিন আগে দানা বেঁধেছিল বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে ফাউল করে লার্ল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে (বেলজিয়াম) নিষিদ্ধ থাকার কথা তার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের ফলে তার লাল কার্ড স্থগিত করা হয়। যেটি নিয়ে বেলজিয়াম আবেদন করলে, তাদের আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়।
সেসব বিতর্ক ভুলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক শুরু করে বেলজিয়াম। ফলাফলও মেলে দ্রুতই। ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান ট্রোসার্ড। সেই বল ডি-বক্সের মধ্যে ড্রপ খেয়ে চলে আসে ডি কেটেলারের সামনে। এরপর আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
ম্যাচের ৩১তম মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেখান থেকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেছিলেন মালিক টিলম্যান। তার মাঝ বরাবর নেওয়া শটে বলের লাইনেই ছিলেন থিবো কর্তোয়া। তবে সেটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন জালে জড়ায়। গোলরক্ষক কর্তোয়ার চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
পরের মিনিটেই যুক্তরাষ্ট্রের উল্লাস মাটি করে আবারও লিড নেয় বেলজিয়াম। আক্রমণে ওঠে মাঝমাঠ থেকে বামপ্রান্তে সুইস করে বেলজিয়াম। সেই বল ধরে নিয়ে অনেকটা গোললাইনের কাছে থেকে ছয়গজ বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়া ট্রোসার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে ওঠে হেডে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ডি কেটেলারে।
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ছয়গজ বক্সের মধ্যে চলে এসেছিল ফোলারিন বালোগানের কাছে। তিনি শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি চলে যায় গোলবারের অনেকটা ওপর দিয়ে।
শেষদিকে আরও দুটি আক্রমণ করে বেলজিয়াম। তবে আর গোল আদায় করতে পারেনি তারা। ফলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আক্রমণে ধার কম ছিল না তেমন। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ফাইনাল থার্ডে গিয়ে বারবার থেমে যায় তাদের প্রচেষ্টা। অন্যদিকে, বেলজিয়াম কাউন্টার অ্যাটাকে কোনঠাসা করে স্বাগতিকেদের।
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে ফেরার আশা প্রদীপ নিভিয়ে উল্টো আরও একটি গোল করে বেলজিয়াম। বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকাতে ডি-বক্স ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক। ফাঁকা জালে বল জড়াতে কোনো ভুল করেননি হান্স ভানাকেন। এই গোল কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেলজিয়ামের হাতে তুলে দেয়।
তবুও ম্যাচে ফিরতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো আক্রমণে ধার বাড়াতে একাধিক পরিবর্তন আনেন। তবুও বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে নিরাপদ রাখেন।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন রোমেলু লুকাকু। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন তিনি। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের বড় জয়। স্বাগতিকদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল বেলজিয়াম।

স্পোর্টস ডেস্ক