বন্ধুত্ব ছাপিয়ে নামতে হবে মাঠের লড়াইয়ে
একসময় একই ড্রেসিংরুমে বসতেন। একই স্বপ্নের পেছনে ছুটতেন। একজনের সাফল্যে অন্যজনের মুখে ফুটত হাসি। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতেন দুজনেই। পিএসজির জার্সিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথচলা সেই দুই বন্ধু আজ দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রান্তে। ফুটবল তাদের আবারও মুখোমুখি করেছে, এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির দ্বৈরথে তাই বাড়তি এক আবেগের ছোঁয়া আছে। একসময় একই জার্সিতে খেলেছেন। একসঙ্গে উদযাপন করেছেন সাফল্য। এবার সেই দুই বন্ধু ভিন্ন দেশের হয়ে লড়বেন। একজনের লক্ষ্য ফ্রান্সকে এগিয়ে নেওয়া। অন্যজনের স্বপ্ন মরক্কোর ইতিহাস ধরে রাখা।
২০২১ সালে হাকিমি পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় তাদের ঘনিষ্ঠতার গল্প। দুজনের বয়স একই। ফুটবল নিয়ে ভাবনাও ছিল অনেকটা কাছাকাছি। নতুন ক্লাবে মানিয়ে নিতে হাকিমির পাশে ছিলেন এমবাপ্পে। ভাষার সমস্যায় স্প্যানিশ জানা এমবাপ্পে সহজ করে দিয়েছিলেন তার পথচলা।
পিএসজিতে কাটানো সময়েই তাদের সম্পর্ক পায় অন্য এক মাত্রা। সতীর্থ থেকে তারা পরিণত হন ঘনিষ্ঠ বন্ধনে। অনুশীলনের ফাঁকে আড্ডা, ড্রেসিংরুমে পাশাপাশি থাকা। ছুটিতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা ভিডিও গেম খেলা, সবকিছুতেই ছিল তাদের বন্ধুত্বের ছাপ।
মাঠেও তাদের বোঝাপড়া ছিল দুর্দান্ত। এমবাপ্পের গোল উদযাপনে প্রায়ই দেখা যেত হাকিমিকে। আবার হাকিমির কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এমবাপ্পে। সম্পর্কটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে সতীর্থ থেকে তারা হয়ে উঠেছিলেন ভাইয়ের মতো।
তবে ফুটবল মাঠে বন্ধুত্বের জায়গা থাকে না। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ম্যাচের আগে হাকিমি লিখেছিলেন, ‘শিগগিরই দেখা হবে বন্ধু।’ সেই ম্যাচে ফ্রান্স জিতলেও শেষ পর্যন্ত মনে রাখার মতো ছিল দুই বন্ধুর মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে হতাশ হাকিমির কাছে ছুটে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। জড়িয়ে ধরেছিলেন প্রিয় বন্ধুকে। এরপর দুজন জার্সি বদল করে দিয়েছিলেন বন্ধুত্বের অসাধারণ এক বার্তা।
এবার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি তারা। ৯০ মিনিটের জন্য একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হবেন। কিন্তু ম্যাচ শেষ হলেই ফিরে আসবে সেই পুরোনো সম্পর্ক। কারণ এমবাপ্পে ও হাকিমির গল্প মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলের লড়াই সাময়িক। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্বের জায়গা আলাদা।

স্পোর্টস ডেস্ক