বিশ্বকাপের মাঝেই নতুন চমক দিতে পারে ফিফা
বিশ্ব ফুটবলে আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৪৮-এ বাড়ানোর পর এবার ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে উঠেছে আরও বড় পরিকল্পনা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন, ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বদলে যেতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামো।
সবচেয়ে সম্ভাব্য যে ফরম্যাট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো ১৬টি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি গ্রুপে ৪টি দল রাখা। প্রতিটি দল খেলবে তিনটি করে ম্যাচ এবং প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল উঠবে নকআউট পর্বে। এতে শেষ ষোলোর পরিবর্তে সরাসরি ৩২ দলের নকআউট পর্ব শুরু হবে, যা একসময় পুরো বিশ্বকাপেরই সমান ছিল।
এই কাঠামো অনুসরণ করলে ম্যাচসংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২৮টি, যা ৩২ দলের দ্বিগুণ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের নির্ধারিত ১০৪ ম্যাচের চেয়েও বেশি। ফলে টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি ও আয়োজন দুইই বড় আকার নেবে।
প্রতি গ্রুপে তিন দলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আগে আলোচনা হলেও তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। প্রতিযোগিতার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চার দলের গ্রুপে ফেরার পক্ষেই মত বেশি। এতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও ন্যায্যতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমন হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বাছাইপর্বে। ৬৪ দল হলে ফিফার সদস্য দেশগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। এতে অনেক অঞ্চলে বাছাইপর্বের গুরুত্ব কমে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এতে বিশ্বকাপে ওঠার মর্যাদা কমবে। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, এতে আরও বেশি দেশ আন্তর্জাতিক ফুটবলে উন্নতির সুযোগ পাবে।
এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়সূচি এক মাসের বেশি লম্বা হতে পারে, প্রয়োজন হবে আরও বেশি স্টেডিয়াম ও আয়োজক শহর। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং ব্যস্ত সূচিও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠবে।
এরই মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে একাধিক মহাদেশে। প্রথমবারের মতো ৬টি দেশ বিশ্বকাপের স্বাগতিক। তবু, ৬৪ দল যুক্ত হলে জটিলতা আরও বাড়বে।
ফিফার মতে, এই সম্প্রসারণ বিশ্ব ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক করবে। বেশি দল মানে বেশি প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে।
তবে ইউরোপীয় ফুটবলের অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে টুর্নামেন্টের মান কমতে পারে, গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোর প্রতিযোগিতা হ্রাস পাবে এবং খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়বে।
এখনও এটি কেবল প্রস্তাব। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ফিফা।

স্পোর্টস ডেস্ক