৮৮ বছর পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারবে ফ্রান্স?
কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট—প্রতিটি বাধাই দাপটের সঙ্গে পেরিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনগত রাত ১টায় স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে ইতিহাস স্পর্শ করার বিরল এক সুযোগ।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলা ছয়টি ম্যাচের সব কটিতেই জয় পেয়েছে লে ব্লুজরা। সেমিফাইনালে নিজেদের সপ্তম ম্যাচেও জিততে পারলে বিশ্বকাপে টানা সাত জয়ের রেকর্ড গড়া ইউরোপের মাত্র দ্বিতীয় দল হবে ফ্রান্স।
এখন পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দল হিসেবে এই কীর্তি ধরে রেখেছে ইতালি। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮—দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতে আজ্জুরিরা গড়েছিল ইতিহাস, যা আজও অক্ষত।
১৯৩৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি ড্র করেছিল ইতালি। সে সময় টাইব্রেকারের প্রচলন না থাকায় পরদিন রিপ্লে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জিতে শুরু হয় ইতালির অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা। এরপর সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়াকে এবং ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে তারা।
চার বছর পর ১৯৩৮ বিশ্বকাপেও নিজেদের প্রথম চারটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই সঙ্গে টানা সাত ম্যাচ জয়ের অনন্য রেকর্ডও নিজেদের করে নেয় আজ্জুরিরা।
এরপর গত ৮৮ বছরে জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো পরাশক্তিরা বিশ্বকাপ জিতলেও ইউরোপের আর কোনো দল টানা সাত ম্যাচে জয় পায়নি। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে ফ্রান্স।
সেমিফাইনালে জয়ের মাধ্যমে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারলে ইতালির পাশে জায়গা করে নেবে এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও তাদের সতীর্থরা। ৮৮ বছর ধরে অক্ষত থাকা ইউরোপীয় ফুটবলের এক ঐতিহাসিক রেকর্ডে তখন যোগ হবে নতুন একটি নাম।

স্পোর্টস ডেস্ক