ফ্রান্সকে শঙ্কায় রেখে বিরতিতে গেল স্পেন
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে প্রথমার্ধেই ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল স্পেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে লা রোহা। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার একাধিক চেষ্টা করলেও স্পেনের দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সফল হতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের তিনটি ধাপ পেরিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দাপুটে দুই দল ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে।
শুরুর দিকে বলের দখল ও আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে দুই দলই সমানতালে লড়াই চালায়। স্পেন ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। আর ফ্রান্স দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তবে প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে স্পেন। আর সেখান থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে বক্সের ভেতরে লামিনে ইয়ামালকে ট্যাকল করে ফেলে দেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিনে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি ইভান বার্টন। স্পটকিক নিতে এসে দারুণ আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স, তবে স্পেনও রক্ষণে ছিল বেশ সংগঠিত। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াই যত এগোতে থাকে, ম্যাচও ততই শারীরিক হয়ে ওঠে। এরপরও দুই দল আক্রমণের ধার কমায়নি।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে দুই প্রান্তেই গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। প্রথমে স্পেনের দানি ওলমো দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর একইভাবে ফ্রান্সের ব্র্যাডলি বারকোলাও দূর থেকে শট নেন। তবে দুটি প্রচেষ্টাই ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্পেন। আবার সমতাও ফেরাতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় ফ্রান্স। ৪৩তম মিনিটে মাইকেল অলিসের অসাধারণ থ্রু পাসে রক্ষণভাগ ভেদ করে ছুটে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গতি দেখে মনে হচ্ছিল ভালো সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। কিন্তু অসাধারণ দূরদর্শিতা দেখিয়ে দ্রুত বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে স্লাইড করে বল ক্লিয়ার করে গোলরক্ষক উনাই সিমন। এমবাপ্পের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।

স্পোর্টস ডেস্ক