যে ছবির ভেতর লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের ফুটবল ইতিহাস
একটি ছবি। একটি শিশুর হাসি। আর এক তরুণ ফুটবলারের মায়াভরা মুহূর্ত। তখন কেউ জানত না, এই দৃশ্য একদিন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলোর একটি হয়ে উঠবে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসির কোলে থাকা সেই ছোট্ট শিশুটি আজ লামিনে ইয়ামাল। সময়ের স্রোতে একজন হয়ে উঠেছেন ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন।। আর অন্যজন লিখছেন নতুন যুগের সম্ভাবনার গল্প। প্রায় দুই দশক পর তাদের পথ আবার মিলেছে। তবে এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, প্রতিপক্ষ হিসেবে।
ফুটবল কখনো কখনো এমন গল্প তৈরি করে। যা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ২০০৭ সালে মেসি ছিলেন বার্সেলোনার তরুণ এক প্রতিভা। যিনি ধীরে ধীরে বিশ্ব ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করছিলেন। আর সেই সময় মাত্র পাঁচ মাসের শিশু ইয়ামাল জানত না, একদিন তার নাম উচ্চারিত হবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকাদের তালিকায়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন আলোকচিত্রী হোয়ান মনফোর্ট। যার ক্যামেরায় ধরা পড়ে দুই প্রজন্মের এই অনন্য সংযোগ।
বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু’র ড্রেসিংরুমে তোলা সেই ছবিতে দেখা যায়, তরুণ মেসি ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে আছেন এবং তাকে গোসল করাচ্ছেন। তখন এটি ছিল একটি সাধারণ ফটোশুট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ছবিটি হয়ে ওঠে ফুটবলের এক প্রতীকী স্মৃতি। ২০২৪ সালে স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের পর ইয়ামালের বাবা ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির শুরু।’ এরপর ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
ইয়ামালের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম। মরক্কোর বংশোদ্ভূত বাবা মুনির নাসরাউই এবং নিরক্ষীয় গিনির মা শেইলা এবানা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বার্সেলোনার কাছের মাতারোর রোকাফোন্ডা এলাকায় বেড়ে ওঠা ইয়ামাল নিজের শিকড়কে সবসময় মনে রাখেন। তার গোল উদযাপনের ৩-০-৪ সংকেত সেই এলাকার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।
অন্যদিকে, মেসির গল্পও অনুপ্রেরণায় ভরা। একসময় বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা হিসেবে যাত্রা শুরু করা সেই ফুটবলারই পরবর্তীতে হয়ে উঠেছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি’অর ও অসংখ্য ট্রফি দিয়ে তিনি নিজের নামকে কিংবদন্তির উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আর ইয়ামাল মাত্র কিশোর বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে নতুন প্রজন্মের আশা হয়ে উঠেছেন।
এখন সেই পুরোনো ছবির গল্প এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। একসময় যে মেসি কোলে নিয়েছিলেন ছোট্ট ইয়ামালকে, এবার সেই ইয়ামালই দাঁড়াবেন তার বিপক্ষে। একজন চাইবেন ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে আরও মহিমান্বিত করতে, অন্যজন চাইবেন নিজের ভবিষ্যতের গল্পকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে। মেসি ও ইয়ামালের এই সাক্ষাৎ তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি ফুটবলের অতীত ও ভবিষ্যতের এক অসাধারণ মিলন।

স্পোর্টস ডেস্ক