অশ্রু থেকে উল্লাস, নিকো উইলিয়ামসের বিশ্বজয়
কয়েক দিন আগেও বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল নিকো উইলিয়ামসের। চোখে ছিল হতাশার অশ্রু। সামনে ছিল অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ। কিন্তু চোট কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলের ভিত্তি গড়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম সেনানীতে পরিণত হন এই তরুণ উইঙ্গার।
উরুগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ক্যানোব্বিওর ট্যাকলে চোট পান নিকো। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি। প্রথমে শঙ্কা ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হতে পারে। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষায় জানা যায়, ডান অ্যাডাক্টর পেশি ছিঁড়ে যায়নি, অতিরিক্ত চাপে ছিল। সেই স্বস্তির খবরই তাকে ফিরিয়ে আনে নতুন আশায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে ফিরে ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান নিকো। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ সময় খেলেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৭৫তম মিনিটে তাকে মাঠে নামান। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে। তখন তার গতিই হতে পারে পার্থক্য, এমন বিশ্বাস থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেন স্পেনের কোচ।
মাঠে নেমেই আক্রমণে নতুন গতি এনে দেন নিকো। ড্রিবল, গতি আর সাহসী আক্রমণে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। দূরপাল্লার শক্তিশালী শট ও কাছ থেকে হেডে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও দুবারই দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনকে হতাশ করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবু নিজের চেষ্টায় একটুও ভাটা পড়তে দেননি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ভাসানো ক্রসে অনেকটা গোললাইনের কাছে লাফিয়ে উঠে মাথা ছুঁইয়ে বলটি ফেরান তোরেসের সামনে বাড়িয়ে দেন নিকো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান। শুরুর একাদশে সুযোগ না পেলেও তিনটি শট, দুটি লক্ষ্যভেদী প্রচেষ্টা, পাঁচটি ক্রস, দুটি সুযোগ সৃষ্টি এবং ২২টির মধ্যে ২১টি সফল পাস। সীমিত সময়ে মাঠে নেমেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার অন্যতম কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি।
বিশ্বকাপের সোনালি রাতটি স্পেনের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি নিকো উইলিয়ামসের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হয়ে থাকবে। পুরো মৌসুম জুড়ে চোট, হতাশা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসেন তিনি। ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সবার আগে ছুটে যান গ্যালারিতে থাকা পরিবারের কাছে। নিজের পদকটি মায়ের হাতে তুলে দিয়ে যেন জানিয়ে দেন, এই সাফল্যে সমান অংশ রয়েছে কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষগুলোরও। দীর্ঘ অপেক্ষা, অশ্রু আর সংগ্রামের পর বিশ্বকাপের সেই রাতই তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

স্পোর্টস ডেস্ক