মেসি নেই, কেমন হবে স্কালোনির একাদশ?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে দলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে পাচ্ছে না আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল জাদুকরকে ছাড়াই লিওনেল স্কালোনি আক্রমণভাগ কীভাবে সাজাবেন, তা নিয়েই এখন চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ম্যাচ শুরুর আগে এই বিষয়টিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
চলমান ফিফা উইন্ডোতে মোট তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার। যার প্রথমটিতে বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপর আগামী ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসো এবং ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কালোনির দল।
এর মধ্যে আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে বুয়েনস আইরেসের বিখ্যাত মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচ।
বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মূল একাদশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে সম্ভাব্য শুরুর একাদশ নিয়ে এরই মধ্যে নিজের ব্লুপ্রিন্ট ও পরিকল্পনা কষে ফেলেছেন তিনি। মাঠে মেসিকে ছাড়া কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশ, এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।
গণমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিভিয়া ম্যাচের শুরুর একাদশে গোলবারের নিচে যথারীতি আস্থার প্রতীক হয়ে থাকছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার ঠিক সামনে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে আগুস্তিন গিয়াই, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ফাকুন্দো মেদিনাকে।
এছাড়া মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এক্সেকিয়েল পালাসিওস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দায়িত্ব দিতে পারেন কোচ। আর আক্রমণভাগে ভ্যালেন্তিন বারকো, উদীয়মান তারকা নিকোলাস পাজ, হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজকে একসঙ্গে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দলে লিওনেল মেসি থাকলে সাধারণত একসঙ্গে শুরুর একাদশে সুযোগ পান না লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। তবে এবার মাঠে মেসি অনুপস্থিত থাকায় এই দুই পরীক্ষিত স্ট্রাইকারকে একসঙ্গে খেলানোর দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন কোচ স্কালোনি। স্কোয়াডে দুজনের সমন্বয় ও কার্যকারিতা কেমন হয়, তা ঝালাই করে নেওয়ার এটিই মোক্ষম সময়।
এদিকে বলিভিয়া ম্যাচের কঠিন লড়াইয়ের আগে সোমবার বিকেলে ঘাম ঝরিয়েছে আর্জেন্টিনা দল। দেশটির ঐতিহ্যবাহী এজেইজা কমপ্লেক্সে—যা এখন খোদ লিওনেল মেসির নামে নামকরণ করা হয়েছে—সেখানেই শুরু হয় আলবিসেলেস্তেদের অনুশীলন ক্যাম্প।
অনুশীলনের শুরুতেই মাঠে উপস্থিত থেকে দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
অনুপ্রবেশের শুরুতে খেলোয়াড়দের মূলত দুটি আলাদা ভাগে ভাগ করে নেন কোচিং স্টাফরা। এর মধ্যে দলের মূল স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার তুলনামূলক হালকা ও রিকভারি অনুশীলনে অংশ নেন। এই দলে ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেজ ও এক্সেকিয়েল পালাসিওস।
দলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা মেসি, রদ্রিগো ডি পল ও নিকোলাস ওটামেন্দির মতো সিনিয়র ফুটবলারদের ক্ষেত্রে সাধারণত হালকা ফুটবল খেলে শরীর সতেজ রাখার যে নিয়ম রয়েছে, এদিনও ঠিক সেই পথেই চলেছে স্কোয়াড।
তবে এর বাইরে আগের কোনো চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা কিংবা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ফুটবলারদের জিমেই সময় কাটাতে হয়েছে। এ ছাড়া নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও থিয়াগো আলমাদার মতো খেলোয়াড়রা মাঠে না দৌড়ে ইনডোরে স্টেশনারি বাইক চালিয়ে ঘাম ঝরিয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলে সপ্তাহান্তে নিজেদের ব্যস্ত ম্যাচ শেষ করে সোমবারই জাতীয় দলের সঙ্গে এসে যোগ দিয়েছেন দুই তরুণ ফুটবলার তমাস পালাসিওস ও লিওনেল ফ্লোরেস। এর আগে পালাসিওস জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনে থাকলেও এস্তুদিয়ান্তেসের জার্সিতে আন্তর্জাতিক সুপার কাপ ম্যাচ খেলার কারণে তাকে ক্লাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, বোকা জুনিয়র্সের হয়ে রেসিং ক্লাবের বিপক্ষে কোপা আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলে সরাসরি জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়েছেন ফ্লোরেস।

স্পোর্টস ডেস্ক