শাই হোপের দাপটে বড় রান করেও রক্ষা পেল না ভারত
কখনও কখনও নীরবতাও ঝড়ের আগমনী বার্তা দেয়। নিজের সামর্থ্য নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নয়, বরং ব্যাট হাতেই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পছন্দ করেন শাই হোপ। ক্যারিবীয় এই তারকার দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত টাইমিং যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, বড় কিছু করতে সব সময় শোরগোলের প্রয়োজন হয় না।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০ রান। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাতে ক্যারিবীয়দের দরকার ছিল সহজ সমীকরণ মেলানো। একই সঙ্গে সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে ছিলেন অধিনায়ক শাই হোপ।
অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান হোপ। পরের বলে এক্সট্রা কাভারে বল ঠেলে রান নেননি তিনি। তৃতীয় বলটি ওয়াইড লং অন দিয়ে সীমানাছাড়া করেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেন দলের দুর্দান্ত জয়। মাত্র ৪৫ বলে শতক তুলে নেওয়া হোপের ইনিংসে ভর করে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জয়। পাঁচ ম্যাচের সিরিজেও ফিরে এসেছে ১-১ সমতা।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই ম্যাচে ক্যারিবীয়দের প্রতিপক্ষ হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকেরা।
রাঁচিতে শুরুতে অবশ্য এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ রানে ২ উইকেটে পরিণত করেন। সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান হোপ। রোভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে মাত্র ২৭ বলে ৫৩ রান যোগ করেন তিনি। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।
এরপর রাদারফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হোপ। মাত্র ৯ ওভারে দুজনের জুটিতে আসে ১২০ রান। ৩৭ বলে ৭ ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।
সেই পরিস্থিতি থেকেও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি ক্যারিবীয়দের। ৬৩ রানে অপরাজিত থাকা হোপ রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে মাত্র ২৬ বলে যোগ করেন ৭৪ রান। শেফার্ডের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৩৪ রান। অন্যদিকে, হোপের ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলে প্রথমবার শতকের দেখা পেয়েছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ২৪৯ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন।
সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে (১১ অক্টোবর) রোববার, ইন্দোরে।

স্পোর্টস ডেস্ক