নিউজিল্যান্ডের দুইশ ছাড়ানো পুঁজিও আটকাতে পারল না ভারতকে
ঘরের মাঠে গ্লেন ফিলিপস, ফিন অ্যালেন আর মিচেল ব্রেসওয়েলের ঝড়ে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তবে আধুনিক ক্রিকেটে সেটিও যে জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, সেটাই আরেকবার প্রমাণ করল ভারত। সাঞ্জু স্যামসনের ঝড়ো শুরুর পর শেষটা করলেন নামান ধীর। রীতিমতো চার-ছক্কার ঝড় তুললেন তিনি। এতে ২ বল হাতে রেখেই নিউজিল্যান্ডের দুইশ ছাড়ানো পুঁজি ছাড়িয়ে গেছে ভারত।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের হ্যাগলি ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয় ২২৫ রান সংগ্রহ করেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
রাত তাড়ায় নেমে ভারতকে ঝড়ো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন আর অভিষেক শর্মা। উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ার-প্লেতেই ৯৩ রান তুলে ফেলেন এই দুজন। পাওয়ার-প্লের একবল বাকি থাকতে ১২ বলে ২৯ রান অভিষেককে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মিচেল ব্রেসওয়েল।
স্যামসনও আর বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। ৩৩ বলে ৬৭ রানের টর্ণেডো ইনিংস খেলা এই ভারতীয় ওপেনারকে ফেরান মিচেল স্যান্টনার। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তিন নম্বরে নামা তিলক ভার্মাও (১১ বলে ৬)। এক ওভার পরই ৩ বলে ১ রান করে আউট হন ইশাণ কিষান।
দ্রুতই চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। তবে সেই চাপ কাটাতে অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে একটি ছোট জুটি গড়েন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি থেকে আসে ৪৫ রান। ১৪ বলে ২৪ রান করে অক্ষর ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
আইয়ার এরপর জুটি বাঁধেন নামান ধীরকে নিয়ে। এই জুটির স্থায়ীত্ব হয়েছে ২৩ বল। তবে রান এসেছে ৪৩। ১৯তম ওভারে আইয়ার ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ২৮ বলে ৪২ রান করেন ভারতীয় অধিনায়ক।
ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচ ভারতের হাতে চলে এসেছে। উইকেটে থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নামান ধীর। মাত্র ১৫ বলে ৪২ রানের অপরাজিত ক্যামিওতে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নামান। ২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সমান দুটি করে উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার আর মিচেল ব্রেসওয়েল। একটি করে উইকেট যায় অ্যাডাম মিলনে আর লুকি ফার্গুসনের ঝুলিতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা ধীরগতির শুরু করে নিউজিল্যান্ড। একপ্রান্তে ফিন অ্যালেন হাতখুলে খেললেও টিম শেইফার্ট ছিলেন খোলসে বন্দি। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ১৭ বলে ২৪ রান করে শেইফার্ট ফিরলে ভাঙে ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এরপর আরও কিছুটা সময় ব্যাট চালিয়ে যান অ্যালেন। তবে হাফসেঞ্চুরির কাছে গিয়ে তিনি শিকার হন অক্ষর প্যাটেলের। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। তিন নম্বরে নামা ড্যারিয়েল মিচেল শুরুটা পেয়েছিলেন ভালোই। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ১৯ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন ড্যারিয়েল।
তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন গ্লেন ফিলিপস আর বেভন জ্যাকভস। মাত্র ৩৩ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ১৬ বলে ৩১ রান করে জ্যাকব ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
জ্যাকব ফিরলেও অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন ফিলিপস। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪০ বলে ৮২ রান করে। নিউজিল্যান্ড পায় ২২৫ রানের পুঁজি।
ভারতের হয়ে সমান একটি করে উইকেট পেয়েছেন আর্শদ্বীপ সিং, মায়াঙ্ক যাদব আর অক্ষর প্যাটেল।

স্পোর্টস ডেস্ক