এমবাপ্পের জোড়া গোলে থামল বার্সার জয়যাত্রা
একদিকে বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য ছুটে চলা, অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হারানো দাপট ফিরে পাওয়ার তাগিদ। এবার এল ক্লাসিকোর মঞ্চে শেষ হাসি হাসল রিয়ালই। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে থামল বার্সার জয়রথ, জমে উঠল শিরোপার লড়াই।
মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ অক্টোবর (রোববার) কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই হারে লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। একই সঙ্গে লিগে মৌসুমের শুরুতে নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্নও ভেস্তে গেল তাদের।
ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার টানা ২৩ জয়ের ধারাও থামিয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেই জয়ের প্রধান নায়ক এমবাপ্পে, যিনি বার্সার বিপক্ষে আবারও নিজের গোল করার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ৪১ মিনিটে প্রথম গোলের পর ম্যাচের শেষ দিকে তার দ্বিতীয় আঘাতেই নিশ্চিত হয় রিয়ালের জয়।
প্রথম গোলের পেছনে ছিল বার্সার রক্ষণভাগের ভুল। ডান দিক থেকে ইয়ান দিওমান্দের ক্রস সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মার্তিন। তার পায়ে লেগে বল চলে যায় এমবাপ্পের সামনে। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি এই ফরাসি তারকা। বার্সেলোনার বিপক্ষে ১১ ম্যাচে এটি তার ১৩তম গোল। ক্যাম্প ন্যুতে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ।
তবে এমবাপ্পের গোলের পরও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় বার্সা। পিছিয়ে পড়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পান লামিনে ইয়ামাল। পেদ্রির দুর্দান্ত পাসে গোলকিপার আন্দ্রে লুনিনকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি তিনি। তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় হতাশ হতে হয় স্বাগতিক সমর্থকদের।
বার্সার আক্রমণ সামলাতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লুনিন। নিয়মিত গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ইউক্রেনের এই গোলরক্ষক। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। একাধিক আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে জেরার্দ মার্তিনের হেড থেকে আসা নিশ্চিত গোলও অবিশ্বাস্য সেভে আটকে দেন লুনিন।
অবশেষে ৬১ মিনিটে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে পেদ্রির পাস পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন রাফিনিয়া। চলতি লিগে এটি তার নবম ম্যাচে ১৩তম গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫-তে। রাফিনিয়ার গোলে ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে ফিরে আসে উচ্ছ্বাস, ম্যাচে ফেরার আশাও জোরালো হয় বার্সার।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮৭ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ক্রস থেকে বল পেয়ে সহজ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়ে রিয়ালের হয়ে ১১৬ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২১ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের প্রথম জয়ের পথ নিশ্চিত হয়।
এল ক্লাসিকোয় গোলের রেকর্ডেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এমবাপ্পে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের প্রথম সাত ম্যাচেই তার গোলসংখ্যা আট। একুশ শতকে এল ক্লাসিকোয় প্রথম সাত ম্যাচে এর আগে কেউ এত গোল করতে পারেননি। আগের রেকর্ডটি ছিল লিওনেল মেসির, যিনি প্রথম সাত ম্যাচে করেছিলেন ছয় গোল।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য আক্রমণে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। প্রথম ১৫ মিনিটেই রাফিনিয়া ও ইয়ামাল সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। বল দখলে ৫৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে হান্সি ফ্লিকের দল। কিন্তু রিয়ালের রক্ষণভাগে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির দৃঢ়তা এবং লুনিনের দক্ষতায় সেসব সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায় রিয়াল। এমবাপ্পের গোলসংখ্যা লিগে ১০ ম্যাচে ১১ এবং মৌসুমের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে ১৪।
এই জয়ের ফলে শিরোপার লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে রিয়াল। ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো মাদ্রিদ, আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে বার্সাকে শীর্ষস্থান থেকে সরাতে না পারলেও ব্যবধান কমিয়ে শিরোপার লড়াই আরও জমিয়ে তুলেছে রিয়াল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি বার্সেলোনার মৌসুমের দ্বিতীয় হার। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল তারা। সেই পরাজয়ের আগে টানা ১১ ম্যাচে জয় পেয়েছিল ফ্লিকের দল। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই হার বার্সার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, রিয়ালের কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৩ বছর বিরতিতে এল ক্লাসিকোয় ফিরে জয় পেলেন জোসে মরিনিও। প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে ম্যাচের আগে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। আর সেই জয়ের নায়ক হয়ে থাকলেন এমবাপ্পে, যার দুই গোলেই থেমে গেল বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়যাত্রা।

স্পোর্টস ডেস্ক