‘অতি উৎসাহী হয়ে গ্রেপ্তার নয়’, পুলিশকে রিটার্নিং কর্মকর্তা
‘অতি উৎসাহী হয়ে’ আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নতুন করে গ্রেপ্তার না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় এনটিভি অনলাইনকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘পুরানো মামলায় নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার না করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। এ ছাড়া নির্বাচনী আইনও তাই বলে।’
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তবে কোনো প্রার্থীর যদি আগে থেকে ফৌজদারি মামলা ও ওয়ারেন্টের আসামি হয়ে থাকেন তাহলে ভিন্ন হিসাব। তবে ওয়ারেন্টের ওই আসামিকে ধরতে হলেও ইসিকে আগে থেকে জানানো উচিত। কারণ, ওই প্রার্থীকে নির্বাচনে আমরা বৈধ প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছি। অতি উৎসাহী হয়ে আপনি কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।’
ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হচ্ছে। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সরাসরি দলীয় মনোনয়নের ব্যাপার থাকলেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা শুধু দলের সমর্থন পাচ্ছেন। যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর প্রার্থীরা এখন প্রতীকের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং বংশাল থানা বিএনপির সভাপতি মো. তাজ উদ্দিন আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাজের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ও সেসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
তাজ উদ্দিন আহমদের এই গ্রেপ্তারকে ‘গায়েবি গ্রেপ্তার’ উল্লেখ করে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন আজ শনিবার লিখিত অভিযোগ দেন রাজধানীর গোপীবাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের কাছে।
ইশরাক হোসেন তাঁর অভিযোগে বলেন, ‘কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তাজ উদ্দিন আহমদ তাজুকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করার পর নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় গোপীবাগ (দেশবন্ধু হোটেলের সামনে থেকে) সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে। খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ আমি থানায় গিয়ে তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ বলে, তাঁকে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ কিছুদিন আগে তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন।’
‘প্রশ্ন হলো, তাঁকে (তাজ উদ্দিন) তখন কেন গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি? এভাবে অজানা (গায়েবি) মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আমরা চিন্তিত’, যোগ করেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী। তিনি আরো বলেন, ‘প্রার্থীদের হুমকি প্রদান ও গ্রেপ্তার করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি ও দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যহত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।’
আজ সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটির নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আজ বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আমার কাছে। ওই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আগামীকাল (রোববার) আমি পুলিশকে চিঠি দেব। তাঁর নামে ওয়ারেন্ট জারি করা আছে কিনা তা জানতে চাইব। এরপর পুলিশের কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিয়ে প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেব।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। প্রার্থীরা বৈধ হয়ে গেছে। এখন যা কিছু হবে সব নির্বাচনকেন্দ্রিক। আর নতুন করে কারো নামে মামলা করতে হলে অবশ্যই ইসিকে আগে জানাতে হবে।’
ফৌজদারি মামলা থাকলে তো প্রার্থী বৈধ হওয়ার কথা না- এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, ‘তাই তো হওয়ার কথা। প্রার্থীরা যখন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তখন আমরা পুলিশকে দিয়েই তদন্ত করিয়েছিলাম প্রার্থীদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কিনা। তারপরও যদি ভুল করে কারো নামে থেকে থাকে তাহলে তাদেরকে গ্রেপ্তারের আগে ইসিকে নলেজ দিতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক