অতীতের তুলনায় ভোট অনেক সুষ্ঠু : তথ্যমন্ত্রী
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানুষ যেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোট দিচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
মোহাম্মদপুরে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিক আহত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত, অত্যন্ত দুঃখজনক, কোনোভাবেই সমীচীন নয় এবং আমরা এটি সমর্থন করি না। কীভাবে তিনি আহত হলেন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
সকালের দিকে কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপস্থিতি বেশি ছিল- এ প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই আওয়ামী লীগকর্মীরা যে সক্রিয় প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে, তাতে আমাদের প্রার্থীরা প্রচারের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। আর শীতের দিন ও বন্ধের দিন সকাল ৮টায় উপস্থিতি কম হওয়াই স্বাভাবিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে, এবং এখনো বেশ কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে। আমি আশা করব, সবাই যে যেখানে আছেন, ভোট দিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। আর ইভিএম মেশিন নিজেই পোলিং এজেন্টের মতো কাজ করে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট-পরিচয় সঠিক মিললেই কেবল ভোট দেওয়া যায়। সুতরাং আওয়ামী লীগের যত কর্মীই থাকুক, ভোটে অনিয়মের কোনো সুযোগে নেই। অন্যদিকে বিএনপি কর্মীদের অনুপস্থিতি তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতারই পরিচয় এবং নেতাদের কথাবার্তায় তারা হতাশ।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “বিএনপি শুরু থেকেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব তাঁর কথায় বিএনপির উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন এই বলে যে ‘আমাদের সাফল্য এই যে আমরা মাঠে নামতে পেরেছি’- অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, জয়লাভ তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা শুরু থেকেই নানা অভিযোগ করার চেষ্টা করেছে, সকাল থেকেই সেগুলো বলা শুরু করেছে। তারা সকালে, দুপুরে, বিকেলে এবং নির্বাচনী ফলাফল যেমনই হোক, কী বলবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে।”
বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের আসল উদ্দেশ্য কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে আমি তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দেই। কিন্তু তারা সেই নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছে, বারবার বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে ধরনা দিয়ে কূটনীতিকদের শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অবস্থা তৈরি করে দিয়েছে। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা।’

নিজস্ব প্রতিবেদক