আ.লীগের সম্মেলন ঘিরে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিন প্রবেশপথ দিয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা। শরীর তল্লাশির পর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে সম্মেলনস্থলে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন উপলক্ষে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হচ্ছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। নেতাকর্মীদের আগমন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ও চারপাশে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাব অবস্থান নিয়েছে। সম্মেলনস্থলে কাউকে দাহ্য পদার্থ, ছুরি বা দেশলাই নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সম্মেলনকে ঘিরে ডিএমপির পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের নাশকতার পূর্ব তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে মোট ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ঝামেলাযুক্ত পরিবেশ দেখলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হবে। এখন পর্যন্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন।’
আজ বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশেই দলটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের একটি উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য।
এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে/ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/ এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে প্রায় সাত হাজার কাউন্সিলর অংশ নেবেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন ২১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে নির্বিঘ্নে করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলনস্থল, প্রবেশপথসহ চারপাশে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সম্মেলনের শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
২১তম সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। এবার বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক